০৪ আগস্ট ২০২৬, ২১:০৮

গোসলখানায় ছাত্রের লাশ, দুই শিক্ষক কারাগারে

চীফ মেট্রোপলিটন জজ আদালত  © সংগৃহীত

রাজধানীর রায়েরবাগে একটি মাদ্রাসা থেকে ১৩ বছর বয়সী এক শিশুশিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই শিক্ষককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামান এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আব্দুস ছবুর আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কারাগারে পাঠানো দুই আসামি হলেন রায়েরবাগের জোড়াখাম্বা এলাকার রওয়াজাতুল উলুম হাফিজিয়া নুরানি মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মো. জাকারিয়া (৩৫) ও হাফেজ মো. জোবায়ের আহম্মেদ (২০)।

এর আগে সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে ওই মাদ্রাসার তৃতীয় তলার বাথরুম থেকে মো. নাঈম শেখ নামে শিক্ষার্থীটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির মা নাজমা বেগম বাদী হয়ে কদমতলী থানায় মামলা দায়ের করার পর ওই রাতেই মাদ্রাসা থেকে দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার এসআই আমজাদ হোসেন দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বার্থে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। শুনানি চলাকালে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নাজমা বেগমের দুই ছেলে ওই মাদ্রাসায় থেকে পড়াশোনা করত। দুই শিক্ষক বিভিন্ন সময় নাঈমকে নির্যাতন করায় সে পড়ালেখা ছেড়ে মায়ের সঙ্গে চলে আসতে চেয়েছিল। কিন্তু আসামিরা ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং নাঈম মাদ্রাসায় থাকতে না চাওয়ায় তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে নির্যাতন বাড়াতে থাকেন। গত সোমবার দুপুরে নাঈম আবারও মাদ্রাসায় না পড়ার কথা স্পষ্ট জানালে শিক্ষকরা তাকে বেদম মারধর করেন। বাদীর অভিযোগ, এরপর দুপুর ১টা থেকে আড়াইটার মধ্যকার সময়ে আসামিরা নাঈমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।