কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপনের বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ
নেত্রকোনার জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও আলোচিত রিপন মিয়ার (রিপন ভিডিও) বিরুদ্ধে এক কিশোরকে (১৩) ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন আপস-মীমাংসার মাধ্যমে কিশোরীর ইজ্জতের মূল্য নির্ধারণ করেছেন ৫ লাখ টাকা। সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত তাকে এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হবে।
সোমবার (৩ জুলাই) রাতে সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া বাজারে ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে সালিশ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
রিপন মিয়া (রিপন ভিডিও) সদর উপজেলার বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামের মুকদুল মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিপন মিয়া উপজেলার বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে খুব জনপ্রিয়। গত এক সপ্তাহ আগে রাতে এলাকার এক ১৩ বছরের কিশোরী মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলে স্থানীয়দের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়েন। ছাড়া পেয়ে পরদিন বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকায় চলে যান। এরপর স্থানীয় মাতব্বরেরা বিষয়টি মীমাংসা আশ্বাস দিয়ে তাকে বাড়িতে আনেন। এ নিয়ে রবিবার রাতে সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, বৃষ্টির কারণে পিছিয়ে বৈঠকটি সোমবার রাতে ওয়ার্ড বিএনপি'র দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিষয়টি মীমাংসা করতে মেয়ের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে রিপনকে এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা তার মেয়ে ধর্ষণ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমার ছোট বাচ্চা মেয়েটি সাথে রিপন পাশবিক কাজ করেছে।’ তবে সালিশ বৈঠকে ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
অভিযুক্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া ওরফে রিপন ভিডিও বলেন, ‘আমি ছিলাম সামান্য কাঠমিস্ত্রি। সোশ্যাল মিডিয়াতে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে দর্শক-শ্রুতার জনপ্রিয়তা পেয়েছি। আর্থিকভাবে ও আমার পরিবারের সচ্ছলতা এসেছে। গ্রামের একটি মহল আমার সফলতা সহ্য করতে পারছেন না। মেয়েটির সঙ্গে আমি দাঁড়িয়ে এক মিনিট কথা বলেছিলাম। এর মধ্যে ১০-১২ জন লোক এসে আটকে রেখে ভিডিও করেন। এটিকে ইস্যু করে এলাকার একশ্রেণির মানুষ আমার ওপর অবিচার করেছে। এমনকি এলাকাও থাকতে দেবে না। তবে ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো। আমি নির্দোষ। সৃষ্টিকর্তার উপর ছেড়ে দিলাম আমার প্রতি যারা অবিচার করেছে, সৃষ্টিকর্তা যেন তাদের শাস্তি দেয়।’
সালিশ বৈঠকে অংশ নেওয়া আবুল হাসেম বলেন, ‘মেয়ের পরিবারটি খুবই দরিদ্র। তার যে ক্ষতি হয়েছে এটা পূরণ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সালিশ বৈঠকে রিপনকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই টাকাটা মেয়ের পরিবারকে দেওয়া হবে। আর রিপনের মতো জঘন্য লোক এলাকায় থাকলে পুরো এলাকা নষ্ট হয়ে যাবে, এজন্য তাকে এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে।’
নেত্রকোনা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, ‘বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে এসেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’