নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলে যাওয়ায় কারাগারে ১৪ বছরের স্কুলছাত্র
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী ওই শিক্ষার্থীর বয়স ১৪ বছর ২ মাস। সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুর রব সুমন।
কারাগারে পাঠানো শিক্ষার্থী উপজেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মামলার এজাহারে শুরুতে তার বয়স ১৯ বছর লেখা হয়। তবে জন্মনিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী, তার নাম ও বয়সের সঙ্গে এজাহারের তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। আদালতে সোপর্দ করার সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান নাম সংশোধন করলেও বয়স উল্লেখ করেন ১৩ বছর ১১ মাস ২৯ দিন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুর রব সুমন বলেন, ছেলেটি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা থাকলেও মানবিক দিক বিবেচনায় জামিন আবেদন করা হয়েছিল। তবে এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি হওয়ায় জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) মামলার পরবর্তী হাজিরার দিন নির্ধারিত থাকায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পরে তাকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্য খবর: অনুমোদনের বছর না পেরোতেই ভর্তি শুরু হচ্ছে দুই মেডিকেল কলেজে, অনিশ্চয়তায় একটি
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৩০ মে সকালে পূর্ব আলেকজান্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রের নিচে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিল করেন। তাদের বিরুদ্ধে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো এবং কার্যক্রমের ভিডিও ধারণ করে প্রচারের অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় ৪ জুন রামগতি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ময়নাল হোসেন বাদী হয়ে স্কুলছাত্রসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তার বয়স কম না বেশি, সেটি তদন্তের বিষয়। জন্মনিবন্ধনে যে বয়স উল্লেখ রয়েছে, সেটিই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।