ছাগলকাণ্ডের সেই মতিউরের বিচার শুরু
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন বা অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হলো।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ বি এম তারিকুল কবীর আসামির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ গঠন করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর আহমেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার শুনানি চলাকালে মতিউর রহমানকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতে বিচারক অভিযোগনামা পাঠ করে শোনালে মতিউর রহমান নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। এর আগে গত ৫ জুলাই আসামির আইনজীবীরা মামলা থেকে অব্যাহতি (ডিসচার্জ) পাওয়ার আবেদন জানালে আজ আদালত তা খারিজ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।
দুদকের দাখিল করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, মতিউর রহমান তাঁর সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদ গোপন করেছেন। এছাড়া অর্পিত সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের কোরবানি ঈদে ১৫ লাখ টাকায় একটি ছাগল কেনার বুকিং দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন মুশফিকুর রহমান ইফাত নামের এক তরুণ। অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে ইফাত এনবিআরের প্রভাবশালী কর্মকর্তা মতিউর রহমানের ছেলে। এরপরই মতিউর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে থাকা অঢেল অবৈধ সম্পদের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতে থাকে।
দুদকের অনুসন্ধান শেষে মামলা দায়ের ও তদন্তের পর মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং তার ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব ক্রোকসহ বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।