আগস্টে নাশকতার শঙ্কা, বাড়তি সতর্কতা নিয়ে যা বললেন ডিবিপ্রধান
পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহনকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। সাম্প্রতিক বোমাতঙ্কের ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপটে পুলিশ সদস্যদের আরও সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম।
দেশজুড়ে পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহনকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় শনিবার (১ আগস্ট) সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে পুলিশ সদর দপ্তর। এ বিষয়ে রবিবার (২ আগস্ট) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি বোমা নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছে। এ অবস্থায় মাঠপর্যায়ে পুলিশের যানবাহন ও পুলিশ সদস্যরা যেন আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করেন, সে জন্যই সিনিয়র কর্মকর্তারা এ বার্তা দিয়েছেন।’
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘পুলিশ সদস্যরা নিজেদের এবং সরকারি সম্পদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকেন। তারা যেন দায়িত্ব আরও সতর্কতার সঙ্গে পালন করেন, সেটিই বলা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এমনিতেই সতর্ক থাকি। এবার সেই সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি বোমার ঘটনা এবং বোমাতঙ্কের প্রেক্ষাপটে সবাইকে আরও বেশি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে শনিবার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহনকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়, উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা দুষ্কৃতকারীরা পুলিশের জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের ওপর হামলার চেষ্টা করতে পারে। এ তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটকে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের জরুরি বার্তায় বলা হয়, পুলিশের যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের শিথিলতা বা অবহেলার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ডিউটির সময় এবং ডিউটি শেষে পার্কিং করা যানবাহনের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ডিউটিরত কোনো যানবাহন সাময়িকভাবে থামানোর প্রয়োজন হলে তা অবশ্যই নিরাপদ স্থানে পার্ক করতে হবে। পাশাপাশি যানবাহন সার্বক্ষণিক পুলিশ সদস্যদের নজরদারিতে রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই চালক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য ছাড়া পুলিশি যানবাহন ফেলে রাখা যাবে না। অর্থাৎ আনঅ্যাটেন্ডেড অবস্থায় কোনো সরকারি পুলিশি যানবাহন রাখা যাবে না।
এ ছাড়া ডিউটি শেষে থানা, পুলিশ লাইনস, অফিস কম্পাউন্ড বা অন্যান্য নির্ধারিত স্থানে রাখা সরকারি যানবাহনের নিরাপত্তাও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব স্থানে নিয়মিত টহল, প্রয়োজনীয় নজরদারি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের বার্তায় বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে দেশের সব মহানগর, রেঞ্জ, জেলা ও ইউনিটের কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।