০২ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৩৭

দুবাইয়ে কারাগার থেকে বেনজীরের মুক্তির খবর গণমাধ্যমে, তথ্য নেই পুলিশ সদর দপ্তরে

বেনজীর আহমেদ  © সংগৃহীত

দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ—এমন খবর প্রকাশ করেছে দেশের একটি অনলাইন গণমাধ্যম। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়ার কথা জানায়নি বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর। তারা বলছে, বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।

দুবাইয়ের কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। গত সোমবার (২৭ জুলাই) সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) একটি আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি কারামুক্ত হন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে অনলাইন গণমাধ্যম এশিয়া পোস্ট। 

তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি জামিনে মুক্ত হয়েছেন এবং শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তবে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জামিনের ক্ষেত্রে আদালত কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছেন। শর্ত অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না।  বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথি এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি হয়। শুনানি শেষে শর্তসাপেক্ষে তাকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আদালত।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বেনজীর আহমেদের জামিনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। আমরা বিষয়টি যাচাই করছি।’

এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন বেনজীর আহমেদ। দুবাই পুলিশের সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১২ জুন এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করে দুবাই পুলিশ।

বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে এক দশকের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন বেনজীর আহমেদ। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক ছিলেন। এরপর ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন: দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

আইজিপি পদ থেকে অবসরের প্রায় দুই বছর পর স্থানীয় গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে দুদক তদন্ত শুরু করলে ২০২৪ সালে তিনি দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে চলে যান।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কয়েক মাস আগেই বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ সামনে আসে। তদন্তের একপর্যায়ে তিনি দেশত্যাগ করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আদালতের নির্দেশে বেনজীর আহমেদের মালিকানাধীন সাভানা রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কের নিয়ন্ত্রণ নেয় গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন। দুদকের আবেদনের পর ঢাকার একটি আদালত তার বিভিন্ন সম্পত্তি জব্দেরও নির্দেশ দেন।

বর্তমানে তার বিরুদ্ধে অর্ধডজনের বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়েছে। আরেকটি মামলার বিচার চলছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মামলাগুলোর কার্যক্রম আরও গতি পায়। ২০২৫ সালে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন পাঠানো হয়। পরে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ জুন দুবাইয়ের একটি শপিংমল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সেখানকার পুলিশ।