২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:১৬

টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হত্যা, সেনা হেফাজতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ  © সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তৎকালীন র‍্যাব-৭–এর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

সোমবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামিউদ দৌলা চৌধুরী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহকে কাস্টডিতে নেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্ধারিত তারিখে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। বর্তমানে মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বরিশাল সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গত ২৬ জুলাই একরামুল হক হত্যা মামলায় প্রসিকিউশন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি আমলে নেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ২৫ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।

মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ দাখিলের পর ট্রাইব্যুনাল পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার থাকা তিন আসামিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান (বদি), সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আনোয়ার লতিফ খান, র‍্যাবের সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুব আলম, র‍্যাবের সাবেক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) রুহুল আমিন (রাজন), র‍্যাবের সাবেক কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আশেকুর রহমান এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক সদস্য স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।

মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্যে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে একরামুল হককে গুলি করে হত্যার সময় ঘটনাস্থলে মিফতাহ উদ্দিন আহমেদসহ অভিযুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এ অভিযোগও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটংয়ের সামনের রাস্তা থেকে একরামুল হককে অপহরণ করা হয়। পরে রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ার মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন সমুদ্রসৈকতে র‍্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৪৬ বছর বয়সী একরামুল নিহত হন।

নিহত একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। তিনি টানা ১২ বছর উপজেলা যুবলীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার বাবার নাম আব্দুস ছাত্তার এবং মায়ের নাম হাফেজা বেগম।

একরামকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সে সময়ের র‍্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের পাশাপাশি কক্সবাজারে র‍্যাব-৭–এর সাবেক অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দিন আহমেদের নামও সেই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল।