২৪ জুলাই ২০২৬, ২০:২৫

বৃদ্ধকে কাদায় পুঁতে পিটিয়ে হত্যা, ৩ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি আসামিরা

জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী  © প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চাষের জমির কাদায় হাঁটুসমান পুঁতে হাত-পা বেঁধে সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের নয়াকাটা গ্রামে আয়োজিত মানববন্ধনে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে নিহত হারিচ আহমেদের স্বজন ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, গত ১৯ জুলাই বিরোধপূর্ণ একটি জমিতে জোরপূর্বক চাষাবাদের চেষ্টা করে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র। এতে প্রতিবাদ জানালে খলিল মিয়া, ছলেমান, রবিউল ইসলাম, মিজানুর ও ফেরদৌসসহ ৪০-৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল বৃদ্ধ হারিচ আহমেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলাকারীরা এই বৃদ্ধকে নির্মমভাবে হাত-পা বেঁধে চাষের জমির হাঁটুসমান কাদায় পুঁতে রেখে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে পরিবারের নারী সদস্যদেরও মারধর করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় বলে জানান স্বজনরা।

প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে মারধরের পর স্থানীয় গ্রাম পুলিশ ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত হারিচ আহমেদকে প্রথমে কলাপাড়া ও পরে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সাইফুল ইসলাম বাবুল বাদী হয়ে গত ২১ জুলাই মহিপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় খলিল মিয়াকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মানববন্ধনে নিহতের ছেলে সাইফুল ইসলাম বাবুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার বাবাকে প্রকাশ্যে সবার সামনে অমানুষিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পাঁচ দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। আমরা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে প্রধান আসামিসহ সব সহযোগীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

আসামিদের গ্রেফতারের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শীঘ্রই আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।