এক নামের কারণে ৪ মাস কারাভোগ, ক্ষতিপূরণ পেলেন ৩০ লাখ
চেক ডিজঅনার মামলায় নামের মিলের কারণে ভুল ব্যক্তিকে আসামি হিসেবে প্রায় চার মাস কারাভোগের ঘটনায় ভুক্তভোগী মামুন মিয়ার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছে বাদীপক্ষ। ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক তানিয়া সুলতানা লিপির আদালতে উভয় পক্ষের আপস-মীমাংসার নথি দাখিল করা হলে আদালত তা গ্রহণ করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিয়া ইব্রাহিম খলিল অপু এবং ভুক্তভোগীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া জাদু বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে আপস-মীমাংসার সময় ভুক্তভোগী মামুন মিয়া, তার আইনজীবী এবং বিশ্বাস পোল্ট্রি অ্যান্ড ফিস ফিডস লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মামুন মিয়া বলেন, আমি প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলাম। মুক্তির পর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করি। পরে তারা আমার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। তাই আমি আমার সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছি।
তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া জাদু জানান, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভুক্তভোগীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল আর না হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিশ্বাস পোল্ট্রি অ্যান্ড ফিস ফিডস লিমিটেডের প্রতিনিধি মাকসুদুল হক ওয়ালিদ বলেন, প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তার ভুলের কারণেই এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সাময়িকভাবে চাকরি থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আদালতের পরামর্শে উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৮ জুন ‘মেসার্স পড়ন্ত বেলা পোল্ট্রি ফিড’-এর মালিক পরিচয়ে ৩২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়, যা পরদিন অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে ডিজঅনার হয়। পরে আইনগত নোটিশ পাঠিয়ে ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা করা হয়।
বিচার শেষে ২০২৫ সালের ২৯ জুন আদালত আসামিকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে মামুন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তিনি দাবি করেন, তিনি প্রকৃত আসামি নন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব বা চেকের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষে নরসিংদীর শিবপুর মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান দাখিল করা প্রতিবেদনে জানান, কেবল নামের মিল থাকায় ভুল ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ১৯ মে আদালত মামুন মিয়াকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। পরদিন ২০ মে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ থেকে মুক্তি পান।
মুক্তির পর অন্যায়ভাবে কারাভোগের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ ও শাস্তি চেয়ে আদালতে অভিযোগ করেন মামুন মিয়া। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাদীপক্ষ তার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়। পরে উভয় পক্ষের আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধের অবসান ঘটে।