গাইবান্ধায় ইয়াবাসহ এনসিপি নেতা আটক
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৮ পিস ইয়াবাসহ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটক শাকিল মিয়া সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। সোমবার (২০ জুলাই) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত মো. শাকিল মিয়া (২৬) সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম সীচা (হাজীপাড়া) গ্রামের মো. নুর মোহাম্মদ আলীর ছেলে। সম্প্রতি গঠিত এনসিপির সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শাখার কমিটিতে তিনি সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় সক্রিয় তরুণ রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন শাকিল মিয়া। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগে থানায় কোনো মামলা ছিল না বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে, রবিবার (১৯ জুলাই) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কঞ্চিবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই (নিরস্ত্র) মো. নওশের আলী শ্রীপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর বাজারে বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন।
পুলিশ সদস্যরা ধর্মপুর বাজারের জোবেদা ফিলিং স্টেশনের ক্যাশ কাউন্টারের পাশে অবস্থান নেন। ওই এলাকায় ইতোমধ্যেই সন্দেহজনক কার্যকলাপের খবর পেয়েছিলেন তারা।
ইয়াবা বিক্রির সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শাকিল মিয়া দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ সদস্যরা সতর্ক থাকায় তাকে ঘিরে ফেলে এবং আটক করে। আটকের সময় তিনি বেশ বিক্ষিপ্ত আচরণ করেন বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে শাকিল মিয়ার পরিহিত প্যান্টের ডান পকেট তল্লাশি করা হয়। সেখান থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো ৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ঘটনায় এসআই মো. নওশের আলী বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা নম্বর-৩৪ দায়ের করেন। মামলাটি ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬ (১) ধারার সারণির ১০ (ক) অনুযায়ী রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় কোনো ভিকটিম নেই এবং উদ্ধারকৃত ৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে শাকিল মিয়াকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কঞ্চিবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. সেলিম রেজা বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাকিল মিয়াকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের হয়েছে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর দ্রুত সাংগঠনিক অবস্থান স্পষ্ট করে এনসিপির সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আল শাহাদাত জামান জিকো বলেন, ব্যক্তির দায় কোনো সংগঠন নেয় না। এই বিষয়ে আমরা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্রুত তাকে বহিষ্কার করব।
উপজেলা এনসিপির সদস্য সচিব আশানুর রহমান বলেন, আমরা মাদক ও জুয়াসহ সব সময় সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে। শাকিল খান ইয়াবাসহ আটক হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দলের কোনো নেতাই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারবেন না— এটি আমাদের স্পষ্ট অবস্থান।
সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যেই দলের নেতাই হোক না কেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে আইনের আওতায় আনা হবে।