১৬ জুলাই ২০২৬, ২০:৩৩

রিমান্ড শেষে কারাগারে হরিদাস, জিজ্ঞাসাবাদে মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

রিমান্ড শেষে কারাগারে হরিদাস  © সংগৃহীত

অর্থপাচারের মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন।

হরিদাসকে কারাগারে আটক আবেদনে সিআইডি জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে মানিলন্ডারিং মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। 

আদেশের দিন রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর কে. এম. রাকিবুল হুদা তাকে কারাগারে আটক রাখার  আবেদন করেন। ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিধি মোতাবেক ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তার নিকট থেকে মামলার ঘটনার বিষয়ে তার ব্যাংক হিসাব ও এমএফএস হিসাবগুলোতে কারা কি কারণে অর্থ জামা করেছে এবং জমাকৃত অর্থ কার নিকট হস্তান্তর ও কোথায় কিভাবে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। যা এই মানিলন্ডারিং মামলা তদন্ত কাজে সহায়ক হবে। 

আবেদনে আরও বলা হয়, আসামির দেওয়া তথ্যগুলি যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত। তদন্ত সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেল হাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটবে। 

আসামিপক্ষে আইনজীবী শ্যামল কুমার রায় জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 

এর আগে গত ১২ জুলাই ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম। মামলা দায়েরের দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন ১৩ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। 

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালি মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা। অনুসন্ধানের অভিযোগ পর্যালোচনায় জানা যায়, হরিদাস চন্দ্র তরণী একজন সাধারণ ব্যবসায়ী এবং তিনি ব্যাবসার আড়ালে দেশী-বিদেশী মুদ্রা পাচারসহ হুন্ডি ব্যবসার সাথে জড়িত। তার নামে থাকা ৯ ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য কাগপপত্র বিশ্লেষণে জানা যায়, ব্যাংক হিসাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যবসা বর্হিভূত নগদ অর্থ জমা হয়েছে। 

বিবরণে আরও বলা হয়, হরিদাস চন্দ্র তরণীসহ অজ্ঞাতনামা ২ থেকে ৩ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র 'দেশী-বিদেশী মুদ্রা পাচার' করতো। ৯ কোটি ৩৫ লাখ  টাকা অপরাধলব্ধ অর্থ অর্জনসহ অর্জিত টাকা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ আয়ের অবৈধ প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা গোপন ও ছদ্মাবৃত্ত করেছে।