১৩ জুলাই ২০২৬, ১৭:৪২

স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ায় ফাঁস হত্যার রহস্য, ৫ মাস পর লাশ উদ্ধার

নিখোঁজ ইজিবাইক চালক মারুফের মরদেহ উদ্ধার।  © টিডিসি ছবি

স্বামী-স্ত্রীর চিরচেনা ঝগড়া শেষ পর্যন্ত এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করবে, তা হয়তো কেউ ভাবেনি। পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর দেওয়া একটি অভিযোগের সূত্র ধরে দীর্ঘ ৫ মাস পর উদ্ধার হলো নিখোঁজ ইজিবাইক চালক মারুফের মরদেহ। 

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে খুলনার হরিণটানা রেল সেতু সংলগ্ন ব্লু ওয়েল আবাসিক এলাকার একটি বাড়ির উঠান থেকে মাটি খুঁড়ে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই লোমহর্ষক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মুরাদ মোল্লা ও তার স্ত্রী ফাল্গুনী খাতুনকে আটক করা হয়েছে।

​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হরিণটানা এলাকার বাসিন্দা মুরাদ ও ফাল্গুনীর মধ্যে প্রায়ই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া হতো। সোমবার সকালেও তাদের মধ্যে তীব্র কলহ বাধে। একপর্যায়ে মুরাদ তার স্ত্রীকে বেদম মারধর করেন। স্বামীর ওপর প্রতিশোধ নিতে এবং নিজের সুরক্ষায় ফাল্গুনী সোজা হাজির হন থানায়।

​থানায় অভিযোগ দায়ের করার এক পর্যায়ে ফাল্গুনী পুলিশের কাছে এক ভয়ংকর সত্য ফাঁস করে দেন। তিনি জানান, প্রায় ৫ মাস আগে তার স্বামী মারুফ নামের এক ইজিবাইক চালককে খুন করে তার গাড়িটি ছিনতাই করেছিলেন। শুধু তাই নয়, প্রমাণ লোপাটের জন্য ইজিবাইকটি কেটে টুকরো টুকরো করে বিক্রিও করে দেওয়া হয়।

​স্ত্রীর এমন বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি শুনে আর সময় নষ্ট করেনি পুলিশ। দ্রুত ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে মুরাদ মোল্লাকে আটক করা হয়। পরে এই দম্পতির দেখানো স্থান থেকেই চালক মারুফের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

​হরিণটানা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদ হোসেন মিলন জানান, নিহত মারুফ আসামিদের পূর্বপরিচিত ছিলেন। গত রমজান মাসের এক রাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মারুফকে ফোন করে নিজেদের বাসায় ডেকে আনে এই দম্পতি।​ ইজিবাইকে বসা থাকা অবস্থাতেই পেছন থেকে আচমকা দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে মারুফকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর সেই রাতেই বাড়ির উঠানে গর্ত খুঁড়ে মারুফের লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়। রক্তমাখা ইজিবাইকটি চেনার উপায় না রেখে সেটিকে কেটে টুকরো টুকরো করে বাজারে বিক্রি করে দেয় ঘাতক মুরাদ।

​বর্তমানে মারুফের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টা নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।