১৩ জুলাই ২০২৬, ১৩:১৯

নতুন জুয়া আইনে মামলা: গ্রেপ্তার দুই আসামি চার দিনের রিমান্ডে

দুই আসামি মো. আমিনুর ইসলাম (বাঁয়ে) ও মো. সাকিব হোসেন  © সংগৃহীত

অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন সাইটের পেমেন্ট গেটওয়ে পরিচালনার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তাঁদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি প্রণীত জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬–এর ধারায় মামলা করা হয়েছে।

আজ সোমবার (১৩ জুলাই) আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

গতকাল রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এদিন এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন আসামিদের হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত পৃথকভাবে আসামি আমিনুর ইসলামের তিন দিন ও সাকিব হোসেনকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী রাকিবুল ইসলাম এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।  তিনি বলেন, অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত অভিযোগ নিঃসন্দেহে একটি গুরুতর অপরাধ । তবে অভিযোগ উত্থাপন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক ব্যক্তি নির্দোষ বলে গণ্য হবেন।  আমরা আদালতের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখি। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জুয়া আইনে রমনা থানায় গত ১২ জুলাই মামলাটি দায়ের করেন ডিবি সাইবার এবং স্পেশাল ক্রাইমের এস আই আমির হামজা। এই মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আমিনুর ইসলাম (৩৭) ও মো. সাকিব হোসেন (২৮)। পুলিশ জানায় আমিনুর মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান (এমএফএস) নগদ কোম্পানির থানা পর্যায়ের ডিস্ট্রিবিউট ম্যানেজার। ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ জানায়, গত ১১ জুলাই রাজধানীর ধোলাইপাড় এলাকা থেকে আমিনুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুলশান এলাকা থেকে সাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এজাহারে বলা হয়, আমিনুর তাঁর দায়িত্বের অপব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে বেনামে বিপুলসংখ্যক এমএফএস সিম সক্রিয় করে সহযোগীদের কাছে সরবরাহ করতেন। এসব সিম ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন সাইটের পেমেন্ট গেটওয়ে পরিচালনা করা হতো।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, চক্রটি বিশেষ ধরনের একটি অ্যাপ ব্যবহার করে এমএফএস হিসাবসংক্রান্ত তথ্য ও ওটিপি সংগ্রহ করত। পরে ওই হিসাবগুলো ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন করা হতো।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের সময় আসামিদের কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন এবং ৫৯টি সক্রিয় এমএফএস সিম জব্দ করা হয়েছে। এবং দেশে অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি প্রণীত জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬–এর ২৪, ২৫ ও ২৭ ধারায় রমনা মডেল থানায় এ মামলা করা হয়েছে।