চাচাকে গলা কেটে হত্যা, ভাতিজা পলাতক
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় শাহজালাল মিয়া (৫০) নামে এক কৃষককে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তাঁর ভাতিজা গোলাম হোসেন (৩৫) এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কঞ্চিপাড়া (মাঝিপাড়া) গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। রোববার (১২ জুলাই) সকালে মরদেহ উদ্ধার করে ফুলছড়ি থানা পুলিশ।
নিহত শাহজালাল মিয়া ওই গ্রামের মৃত নিয়ামত উল্লার ছেলে। পেশায় তিনি কৃষক ও বাঁশের কাজ করতেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে খাবার খেয়ে নিজ বাড়ির বারান্দার আলাদা কক্ষে (টিনের) ঘুমিয়ে পড়েন শাহজালাল। তাঁর স্ত্রী গোলেদা বেগম ছিলেন মূল ঘরে। গভীর রাতে হঠাৎ গোঙানোর শব্দ পান তিনি। পরে বারান্দার ঘরে গিয়ে দেখেন স্বামীর গলা কাটা অবস্থায় পড়ে আছে। মরদেহের পাশেই ছিল হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরিটি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আজাদ মিয়া জানান, অভিযুক্ত গোলাম হোসেন ঘরের পশ্চিম পাশের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং ঘুমন্ত অবস্থায় চাচার গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। শব্দ শুনে শাহজালালের স্ত্রী এগিয়ে এলে গোলাম হোসেন পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান।
নিহতের ছেলে অটোচালক পাঞ্জু মিয়া জানান, আমার জ্যাঠাতো ভাই গোলাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক ভারসাম্যহীন। সে তার স্ত্রীকে প্রচন্ড মারধর করত। চাচা হিসেবে আমার বাবা সব সময় তাকে শাসন করতেন। সর্বশেষ ৫ মাস আগে কোদাল দিয়ে স্ত্রীকে মারধর করার কারণে আমরা ওর বউকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেই। সেই ক্ষোভ থেকেই আমার বাবাকে খুন করেছে গোলাম হোসেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গোলাম হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও তার স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আহত করার অভিযোগ ছিল। তার আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে প্রায় ৫ মাস আগে স্ত্রীকে নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয় পরিবার ও স্থানীয়রা।
ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা জানান, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি মরদেহের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা শালু বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। খবর পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করেছে।
ওসি দুরুল হোদা আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্ত গোলাম হোসেনকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।