সরকারি শিশু পরিবারে স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, কারাগারে অভিযুক্ত, বরখাস্ত ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী
ফরিদপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সরকারি শিশু পরিবারের (বালিকা) ষষ্ঠ শ্রেণির এক কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মামলার একমাত্র আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শিশু পরিবারের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত সোমবার (৬ জুলাই) ফরিদপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও শিশু নিবাসের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন।
এর দুই দিন পর বুধবার (৮ জুলাই) মামলার আসামি মো. ওয়াহিদ শেখকে (৫৪) ফরিদপুর সদর উপজেলার আদমপুরের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শিশু পরিবারসংলগ্ন একটি বাজারে দর্জির দোকান পরিচালনা করেন।
গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার বলা হয়েছে, কিশোরী শহরের টেপাখোলা এলাকার একটি স্কুলে পড়ে। শিশু পরিবার থেকে স্কুলে যাতায়াত করার সুবাদে গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে ওই এলাকার এক দর্জির দোকানের মালিক মো. ওয়াহিদ শেখ (৫৪) তাকে চকলেট দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই ব্যক্তি তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। এর ফলে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর শারীরিক জটিলতার জন্য শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে গত ৬ জুলাই নেয়া হয়। চিকিৎসক পরীক্ষার পর জানায়, শিশুটি ২৭ সপ্তাহ দুই দিনের গর্ভাবস্থায় রয়েছে।
জানতে চাওয়া হলে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-সচিব ও পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দায়িত্বে অবহেলার জন্য বুধবার সরকারি শিশু পরিবারের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান, কম্পিউটার অপারেটর আবীর দাস, মেট্রন-কাম-নার্স মনি আক্তার এবং আয়া শামসুন্নাহার আক্তার ও তানিয়া তাজরীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. এহিয়াতুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশে মেয়েটিকে সমাজসেবা বিভাগের অধীনে নারী ও শিশু-কিশোরী মহিলা হেফজতিদের আবাসন কেন্দ্র রাখা হয়েছে।