০৯ জুলাই ২০২৬, ১৬:০৬

আনোয়ারায় পানিবন্দি সহস্রাধিক পরিবারকে ত্রাণ দিলেন ইউএনও

ত্রাণ বিতরণ দিচ্ছেন ইউএনও মো. মহিন উদ্দীন  © টিডিসি

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রামের উপকূলীয় উপজেলা আনোয়ারার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতায় অর্ধশতাধিক গ্রামের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক পরিবারের ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার (৮ জুলাই) থেকে পর্যায়ক্রমে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া মানুষদের কাছেও শুকনা খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব গহিরা, রায়পুর, সরেঙ্গা, বৈরাগ, বারখাইন, পরৈকোড়া ও বটতলী ইউনিয়নসহ উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রাম জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। এসব এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে এক হাজার ত্রাণ প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের জন্য ১১ জন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা নিজ নিজ এলাকায় সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয় করছেন।

এদিকে টানা বর্ষণে শুধু আনোয়ারা নয়, চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের উপজেলাগুলোতেও ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের অতি ভারী বর্ষণ এবং জোয়ারের প্রভাবে নিম্নাঞ্চলগুলোয় পানি দ্রুত জমে যায়। পরিস্থিতির কারণে নগর ও উপকূলীয় জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দীন বলেন, পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। আমরা চাই, আনোয়ারার কোনো ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষ যেন অনাহারে না থাকে। যেসব এলাকায় প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে ধারাবাহিকভাবে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, পানি না নামা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণ কার্যক্রম চলমান থাকবে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রস্তুত রয়েছেন।