মাকে শ্লীলতাহানি: অপরাধীকে সন্তানের শাস্তির স্টাইল যেন আম্মাজান সিনেমার গল্প
ময়মনসিংহ নগরের ভাড়াবাসায় যুবক রাজিব আহম্মেদ রুবেল (৪০) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। যা বাংলা চলচ্চিত্র মান্নার সিনেমা আম্মাজানের সঙ্গে কিছুটা মিলে যায়; যেখানে মায়ের সঙ্গে শ্লীলতাহানির দায়ে একসময় প্রতিশোধ হিসেবে জড়িতদের একের পর এক শাস্তি দেয়।
ওই সিনেমায় দেখানো হয়, কারখানার মালিক মুজাম্মেল হোসেনের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইতে গিয়ে বাদশা (মান্না) বিশেষ করে তার মা জাহানারা (শবনম) শ্লীলতাহানির শিকার হন। এরপর এক সময় বাদশা (মান্না) অপরাধজগতের প্রবেশ করেন এবং মায়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপরাধে জড়িতদের শাস্তি দিতে শুরু করে এবং এক পর্যায়ের গলা কেটে খুন করেন।
ময়মনসিংহের ঘটনাতেও মায়ের সঙ্গে অন্যায়ের শাস্তি হিসেবে জড়িতকে খুন করেন তারই সান্তান। ঘটনা থেকে জানা যায়, মাদকের আড্ডা ও বাসা ছাড়তে বলাকে কেন্দ্র করে নারী বাড়িওয়ালাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির ক্ষোভে তার চার ছেলে মিলে রাজিবকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। ওই চার জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তারা হলেন রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬) ও ইমরাজ (১৮)।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, প্রায় এক মাস আগে রুবেল ওই বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তার চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বাড়ির মালিক পারুলের আপত্তি ছিল। অভিযোগ আছে, রুবেল সেখানে বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে আড্ডা দিতেন এবং মাদক সেবন করতেন। এসব কারণে বাড়ির মালিক তাকে পরবর্তী মাস থেকে বাসা ছেড়ে দিতে বলেন। তবে রুবেল জোর করে সেখানে থাকতে চান।
গত রবিবার সকালে রুবেল প্রথমে বাড়িওয়ালা ও তার ছেলের কক্ষের দরজায় লাথি মেরে তাদের ঘুম থেকে তোলেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগিবতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তিনি বাড়ির মালিককে মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন। পরে বাড়ির মালিকের চার ছেলে পরিকল্পনা করে একটি চায়নিজ কুড়াল দিয়ে রুবেলের গলায় আঘাত করে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় রুবেলের বাবা বাদী হয়ে বাড়ির মালিক, তার তিন ছেলেসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো তিন থেকে চার জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শ্লীলতাহানির ঘটনার জেরে গ্রেফতারকৃত চারভাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।
এর আগে গতকাল সকালে ময়মনসিংহ নগরের ছত্রিশবাড়ি কলোনি এলাকার একটি ভাড়াবাসা থেকে রাজিব আহম্মেদ রুবেলের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত রাজিব আহম্মেদ রুবেল নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোড এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে।