০৬ জুলাই ২০২৬, ২২:৪৯

যুবককে অপহরণের ঘটনায় বিএনপি সভাপতিসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরী   © সংগৃহীত

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নাসির উদ্দিন মৃধা (৪০) নামে এক যুবককে অপহরণ, নির্যাতন এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি) দিয়েছে।

সোমবার (৬জুলাই) পটুয়াখালীর অতিরিক্ত চিফ ‍জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

অতিরিক্ত  চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরিন করিম মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। 

বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. বদলুল হক বাদল মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মামলায় বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য ও দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চেীধুরী, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও বাউফল পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ ওরফে হাজী পলাশসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও সাত-আট জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন উপজেলার চরআলগী গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন কৃষক ও তার গরুর খামারি। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে আসামিরা  পটুয়াখালী শহরের হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করে বাউফল নিয়ে আসেন। পরে তার কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা আদায়ের জন্য হাত-পা বেঁধে তাকে  নির্যাতন করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ থেকে কেউ ঘটনা জানালে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজ এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে বাউফল থানা পুলিশ।

ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন অভিযোগ করেছেন, অপহরণকারী খুবই প্রভাবশালী। এ কারণে তিনি এলাকায় যেতে পারছেন না এবং বিভিন্ন হুমকির কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

যদিও অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরী ও মাসুম বিল্লাহ। তারা এ ঘটনাকে মিথ্যা বলে দাবি করেনছেন। 

উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন দাশপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেনের সমর্থক। আর দাশপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরীর বিরোধ চলছে। এরআগে ইউনিয়ন পরিষদে তালা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম মামুনকে মারধর করা হয়। ওই মারধরের ঘটনায়ও আলী আজমের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে।