০২ জুলাই ২০২৬, ০০:৪৫

গাইবান্ধায় শিবির নেতা সাইফুল্লাহ হত্যার প্রধান আসামি মুকুল গ্রেপ্তার

যুবদল নেতা মোখলেছুর রহমান মুকুল  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

গাইবান্ধার সাঘাটায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও সদ্য বহিষ্কৃত যুবদল নেতা মোখলেছুর রহমান মুকুলকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ জুলাই) দুপুর থেকে অভিযান চালিয়ে রাত ৯টার দিকে তাকে সাঘাটার কচুয়া ইউনিয়নের সতীতলা সাহেব বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুন চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই প্রধান অভিযুক্ত মুকুল আত্মগোপনে ছিল। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১ জুলাই) সাদা পোশাকের পুলিশের একটি দল সতীতলা সাহেব বাজারের বিভিন্ন হোটেলে গোপন অবস্থানে ছিল। আত্মগোপনে থাকা খুনি মুকুল ওই এলাকার একটি হোটেলে আসলে সাদা পোশাকের পুলিশ তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে কড়া নিরাপত্তায় সাঘাটা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্রেপ্তারের সময় মুকুল বেশ চমকে যান। তার পরনে ছিল সাধারণ পোশাক, চেহারায় আতঙ্ক। পুলিশ তাকে দ্রুত একটি মাইক্রোবাসে তুলে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয়রা বলছেন, নিজ এলাকার আশপাশেই লুকিয়ে ছিলেন তিনি। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় আত্মগোপনে থেকে হয়ত ভেবেছিলেন নজর এড়াবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইনের চোখ ফাঁকি দিতে পারেননি তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন (রোববার) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মুকুল, তার ভাই পলাশ ও যুবদল নেতা আশরাফ আখন্দসহ ১০-১২ জনের দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী গলায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন এবং তার বন্ধু সালাউদ্দিন ফুসফুসে গুরুতর জখম হন। ঘটনার পরপরই মুকুল পলাতক ছিলেন। তাকে আত্মগোপনে থাকতে সহায়তা করার অভিযোগও উঠেছে।

সাইফুল্লাহ হত্যার ঘটনায় নিহতের বাবা হাবিবুর রহমান বাদি হয়ে সাঘাটা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মুকুলকে প্রধান আসামি করা হয়। এর আগে পুলিশ এ মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। মুকুলের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলার প্রধান আসামিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরপরই বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুলকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করে গাইবান্ধা জেলা যুবদল। তবে স্থানীয়রা ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা শুধু বহিষ্কার নয়, খুনিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, প্রধান আসামি মুকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।