৩০ জুন ২০২৬, ২২:৫৮

ফেনির অপহৃত ৪ তরুণকে টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার

ফেনির অপহৃত ৪ তরুণকে টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে অপহৃত ফেনির চার তরুণকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১৫ ও টেকনাফ থানা পুলিশ। এ সময় অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পাহাড় ও জঙ্গলের ভেতরে পালিয়ে যায়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া পাহাড় থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার আ ম ফারুক।

র‌্যাব সূত্র জানায়, গত ২৬ জুন রাতে ফেনী থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা এলাকায় আসার পর নিখোঁজ হন এমাম হোসেন জিসান (২৩) ও তহিদুল ইসলাম তামিম (১৯)। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ২৮ জুন ফেনীর দাগনভূঞা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১২২১) করা হয়।

ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে র‌্যাব-১৫, সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প) গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। প্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, নিখোঁজ দুই তরুণ টেকনাফের একটি পাহাড়ি অপহরণকারী চক্রের হাতে জিম্মি রয়েছেন।

এরপর আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন)  র‌্যাব-১৫ ও টেকনাফ থানা পুলিশের একটি যৌথ দল টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকার দুর্গম পাহাড়ে অভিযান চালায়। চারদিক থেকে পাহাড় ঘেরাও করে অভিযান শুরু করলে অপহরণকারীরা প্রতিরোধের চেষ্টা করে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে তারা পাহাড়ি জঙ্গলের ভেতরে পালিয়ে যায়।

অভিযান শেষে পাহাড়ি আস্তানা থেকে চারজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার গনিপুর এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে এমাম হোসেন জিসান (২৩), ফেনী পৌরসভার পশ্চিম রামপুর এলাকার মো. সেলিমের ছেলে তহিদুল ইসলাম তামিম (১৯),একই উপজেলার গনিপুর এলাকার মো. নিজাম উদ্দিনের ছেলে মো. এমাম হোসেন (১৮)। হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার নোয়াঐ এলাকার জজ মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া ওরফে হোসাইন (২২)।

উদ্ধার হওয়া তরুণ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, অপহরণকারীরা তাদের পাহাড়ের গহিন আস্তানায় হাত-পা বেঁধে আটকে রাখে। পরে পরিবারের কাছে ফোন করে জনপ্রতি পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। আমাদের শারীরিক মানসিক নির্যাতন করা হয়। আজ আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার করছে। আমারা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার আ ম ফারুক বলেন, চার জন যুবককে অপহরণ করে বলে জিডি করা হয়। জিডির সূত্রে ধরে আমরা অভিযান চালিয়ে আজ চার যুবককে উদ্ধার করেছি। মুক্তিপণের টাকা দিতে দেরি হওয়ায় অপহরণকারীর ভুক্তভোগীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সময়মতো উদ্ধার করা না গেলে তাদের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উদ্ধারের পর ভিকটিমদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অপহরণকারী চক্রের মূল হোতা ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।