৩০ জুন ২০২৬, ১৫:৪৮

জুলাই গণ-অভুত্থানে হত্যা মামলায় ইনুর ১০ বছরের জেল

সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু  © সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণহত্যার সহযোগী হিসেবে তার বিরুদ্ধে আনা ৮টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে ৩টি প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় দেন। 

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যউন্যালের অন্য দুই সদস্য হলেন— বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলার একমাত্র আসামি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আনীত ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আদালত এই তিনটি অভিযোগের প্রতিটিতে ইনুকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। তবে রায়ে উল্লেখ করা হয়, তিনটি সাজাই একসঙ্গে কার্যকর হবে। ফলে জাসদ সভাপতিকে সব মিলিয়ে মোট ১০ বছর কারাগারে কাটাতে হবে। এছাড়া দুটি অভিযোগে তাকে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাকি ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে সেসব থেকে খালাস দিয়েছেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাইসুল হকসহ অন্যান্য ভিকটিমকে গুরুতর জখম, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক কারণে নিপীড়ন করার পেছনে হাসানুল হক ইনুর প্রত্যক্ষ দায় প্রমাণিত হয়েছে। এই অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া, মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা এবং দুষ্কর্মে সহযোগিতার দায়ে তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অপর আরেকটি প্রমাণিত অভিযোগে—মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের আন্তর্জাতিক চুক্তি ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অপরাধেও তাকে সমপরিমাণ সাজা দেওয়া হয়েছে।

হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা ৮টি অভিযোগের মধ্যে প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছিল, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় এক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের ‘জামায়াত ও সন্ত্রাসী’ অ্যাখ্যা দিয়ে বলপ্রয়োগের উসকানি দেন তিনি। দ্বিতীয় অভিযোগে ১৯ জুলাই গণভবনে ১৪-দলের সভায় উপস্থিত থেকে ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহায়তার কথা বলা হয়। তবে এই দুটিসহ চতুর্থ অভিযোগে হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার পরিকল্পনা, পঞ্চম অভিযোগে গণমাধ্যমে নির্যাতন সমর্থন এবং অষ্টম অভিযোগে ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ৬ আন্দোলনকারীকে হত্যার নির্দেশনার দায় প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাঁকে এসব থেকে খালাস দেন।

অন্যদিকে, ৩ নম্বর অভিযোগে ছবি দেখে তালিকা প্রস্তুত করে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতন চালাতে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে (এসপি) ফোনে সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এর পাশাপাশি ৬ নম্বর অভিযোগে ১৪-দলীয় জোটের সভায় উসকানিমূলকভাবে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ৭ নম্বর অভিযোগে শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত টেলিফোনে কথা বলে গণঅভ্যুত্থান দমনে নানামুখী অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অপরাধ প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত ইনুকে এই সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।