২৮ জুন ২০২৬, ১৬:২১

সাতক্ষীরায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি

সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) সদর দপ্তরে জব্দ করা মাদক ধ্বংস করা হয়  © সংগৃহীত

সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে বিভিন্ন সময়ে জব্দ করা প্রায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে বাহিনী।

রবিবার (২৮ জুন) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ উদ্ধার হওয়া এসব মাদক ধ্বংস করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ, খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, র‍্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৪৮ জনকে আটক করা হয়। এ সময় মোট ১২৬ কোটি ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৬ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন মাদকদ্রব্য ছিল।

ধ্বংস করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৭৯১ বোতল মদ, ৪ হাজার ৫২৪ বোতল ফেনসিডিল ও সমজাতীয় মাদক, ৪৭ হাজার ২৭০টি ইয়াবা, ৬ লাখ ৭ হাজার ৭৬৯টি বিড়ি ও সিগারেট, ৩৩ দশমিক ৪ কেজি গাঁজা, ৬৩ লাখ ১৩ হাজার ১২০ পিস বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ওষুধ, ৩৫ কেজি তামাকের গুঁড়া, দুই বোতল লিকুইড সিসা, মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত ১০০ কেজি বটপাতা, ৭২ দশমিক ৫০ মিলিগ্রাম এলএসডি, ৮ দশমিক ৫৮৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) এবং আফিম প্রস্তুতে ব্যবহৃত ২০ বোতল রাসায়নিক।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, মাদকমুক্ত দেশ গঠনে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। মাদক একটি সামাজিক মহামারি। এটি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের লক্ষ্যে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে নিয়মিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে।