২৭ জুন ২০২৬, ১৪:৩৩

ইতালিতে খুন হওয়া ৩ বাংলাদেশির বাড়িতে এসেছিল উড়ো চিঠি

গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের শোক  © সংগৃহীত

ইতালির রাজধানী রোমে স্ত্রী ও মেয়েসহ নিহত বাংলাদেশি কামাল উদ্দিন বাবুলকে প্রায় এক বছর আগে হত্যার হুমকি দিয়ে একটি উড়ো চিঠি পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তার বাবা সিরাজুল ইসলাম। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে কামালের গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতমের মধ্যেই তিনি এ দাবি তুলে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নে নিহত কামাল উদ্দিনের গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়ে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন স্বজন ও পরিচিতজনরা।

এ সময় নিহত কামালের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এক বছর আগে আমার ছেলে দেশে এলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আমাদের বাড়িতে একটি উড়ো চিঠি পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি আমি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছিলাম। আমার ছেলে অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিল। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

এর আগে শুক্রবার (২৬ জুন) ইতালির স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলীয় অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরওয়া ইসলাম আরিশা। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের ছেলে আমির হোসেন অয়ন (১৮)।

আরও পড়ুন: রোমে নিজ বাসায় বাংলাদেশি দম্পতি ও শিশুকন্যাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

নিহত কামালের চাচাতো ভাই সাজ্জাদ মাহমুদ জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা বাড়িতে ভিড় করছেন। ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং গুরুতর আহত অয়নকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তবে চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

ইতালির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ওই আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রাথমিক সুরতহাল শেষে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তাদের হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে রোম পুলিশের বিশেষ শাখা এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেন।