২৫ জুন ২০২৬, ১০:৩৩

চোর আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ২০

চোর আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ  © সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ব্যাটারি চুরির অভিযোগে তিনজনকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে আটক তিনজনকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার ঘাঘরকান্দা-বেপারীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বুধবার (২৪ জুন) রাতে উপজেলার ঘাঘরকান্দা-বেপারীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঘাঘরকান্দা-বেপারীপাড়া গ্রামের মাদক প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা ব্যাটারি চুরির অভিযোগে কাঠি গ্রামের মোরসালিন মিয়া, চিতশী গ্রামের রাসেল দাড়িয়া এবং ঘাঘরকান্দা গ্রামের আব্দুল্লাহ দাড়িয়াকে আটক করে তাদের কার্যালয়ে রাখেন। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।

এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কাঠি ও চিতশী গ্রামের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে মাদক প্রতিরোধ কমিটির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে আটক তিনজনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

ঘাঘরকান্দা-বেপারীপাড়া গ্রামের মাদক প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জসিম মোল্লা বলেন, “আমাদের গ্রামের এক ব্যক্তির গাড়ি থেকে মোরসালিন, রাসেল ও আব্দুল্লাহ ব্যাটারি চুরি করে বিক্রি করে দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা তাদের আটক করে কার্যালয়ে রাখি এবং পুলিশকে খবর দিই। পরে বহিরাগতরা এসে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে কার্যালয় ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়।”

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন— ওহাব গাজী (৬০), জালাল গাজী (৪৫), খলিল গাজী (৪৮), আরিফুল গাজী (৩০), জলিল গাজী (৪৬), ছনিয়া খানম (১৯), মাজেদা বেগম (৪৫), হান্নান বরকতউল্লাহ (৫৫), মুকুল মুন্সী (৪৮), অলি বরকতউল্লাহ (৩৫), তাওসীন বরকতউল্লাহ, হানিফ শেখ (৪৫), হাবিব মুন্সী (৪২) ও জাহিদুল বরকতউল্লাহ (৩৮)সহ আরও কয়েকজন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কাঠি গ্রামের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা কাউকে মারধর করিনি। বরং আমাদের লোকজনকে মাদক প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা মারধর করে আহত করেছে।

কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।