জীবনের জন্য আইসিইউতে ১৩ দিনের লড়াই, থেমেই গেল রাফির জীবন
রাজধানীর কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেল চালক সাজিদ চৌধুরী রাফির মাথায় ইট নিক্ষেপের ঘটনায় আহত হওয়ার পর টানা ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত মারা গেছেন তিনি। বহুল আলোচিত এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন রাফি।
সোমবার (২২ জুন) কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন রাফির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রাফির চাচা মো. নুর হোসেন চৌধুরী জানান, ঘটনার দিন গুরুতর আহত অবস্থায় রাফিকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন ১০ জুন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ার আশরাফ আলী গলিতে পৌঁছালে শত্রুতার জেরে দুষ্কৃতকারীরা রাফির মাথার ডান পাশে ইট দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় পড়ে যান।
ঘটনার পর রাফির চাচা নুর হোসেন কাফরুল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় মো. পারভেজ, আনোয়ার হোসেন বাবু ও মো. ফয়সাল ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: হাফ ভাড়ায় চড়া শিক্ষার্থীরা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হন, প্রতিদানে শ্রমিকদের কী দিল?
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া আসামি কালু প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে রাফির সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। কয়েকদিন আগে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটিও হয়। ঘটনার দিন রাফি একা মোটরসাইকেল চালিয়ে ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় কালু, পারভেজ ও তাদের সহযোগীরা সেখানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। রাফিকে একা দেখে তারা তাকে থামানোর চেষ্টা করেন। তবে তাকে আটকাতে ব্যর্থ হলে কিছুটা সামনে অবস্থান নেওয়া পারভেজ ইটের টুকরো ছুড়ে রাফির মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান।
পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার তার মৃত্যু হয়।
রাফির মৃত্যুর খবরে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এদিকে চলন্ত মোটরসাইকেল আরোহীর ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ রাজধানীজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।