খাগড়াছড়িতে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে আনসার সদস্য বরখাস্ত
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের বাজার এলাকায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) এক সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে অভিযুক্ত সদস্যকে বাহিনীর সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যার দিকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছোট মেরুং ৪ নম্বর কলোনি এলাকার বাসিন্দা আফতাব উদ্দিনের ছেলে মো. আশ্রাফ উদ্দিন (৫৬)-এর বিরুদ্ধে স্থানীয় এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। তিনি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ছোট মেরুং ৬ নম্বর হিল ভিডিপি প্লাটুনের নায়েক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ড্যান্ট মো. ইব্রাহিম খলিল অভিযুক্ত আশ্রাফ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে বাহিনীর দায়িত্ব ও কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন। অব্যাহতির আদেশে তার বিরুদ্ধে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর সঙ্গে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।
দীঘিনালা উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোস্তাকিমুল হক বলেন, ভিডিপি নায়েক মো. আশ্রাফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাহিনীর বিধি অনুযায়ী তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে জেনেছি। ভুক্তভোগী নারী মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তার চিকিৎসা ও মেডিকেল পরীক্ষার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন মহল বলছেন, সমাজের সবচেয়ে অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের প্রতি সহিংসতার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।