কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সংঘর্ষের আশঙ্কা, দেশজুড়ে সতর্কবার্তা
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে সারাদেশে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজিদের কাছে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় সম্ভাব্য কর্মসূচি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সম্ভাব্য কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির সম্ভাব্য তৎপরতা বিবেচনায় নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) একটি জরুরি বার্তা পাঠানো হয়। ওই বার্তায় দেশের বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল এবং বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালনের চেষ্টা হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়েছে, এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে তাদের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। এ কারণে বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ১২ সিনিয়র সহকারী সচিবকে বদলি করল সরকার
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে সারা দেশে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ সংক্রান্ত চিঠি তারা পেয়েছেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো হুমকি বা বিশেষ আশঙ্কার তথ্য নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘স্পেসিফিক কোনো থ্রেট বা আশঙ্কা নেই। আমরা সতর্ক আছি। সারা বছরই বিভিন্ন কর্মসূচি থাকে। আমাদের সামনে বড় কর্মসূচি হচ্ছে ১০ মহররমের আশুরা। পাশাপাশি ২৩ জুন একটি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও রয়েছে। তাই আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি।’
নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতীতের মতোই পুলিশের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি। ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের নতুন পরিকল্পনা, নতুন নিরাপত্তা চেকপোস্ট ও অপারেশন কার্যক্রম অব্যাহত আছে এবং থাকবে।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এর তিন দিন পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, শীর্ষ নেতা এবং প্রভাবশালী সংসদ সদস্যদের একে একে গ্রেপ্তার করা হয়। দলটির জোটসঙ্গী কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বর্তমানে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তাদের উপস্থিতি খুব একটা দেখা যায় না।
এদিকে ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে শত শত মানুষ হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
তবে এর মধ্যেও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল ও কর্মসূচির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে অভিযান ও ধরপাকড় চালানোর কথাও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।