১৮ জুন ২০২৬, ২১:৩৫

বড় ভাইয়ের ঘর থেকে ছোট ভাইয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নিহতের বাড়ি বাড়িতে স্থানীয় লোকজনের ভিড়  © টিডিসি

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় বড় ভাইয়ের বসতঘরের বারান্দা থেকে আবুল কালাম (৫৫) নামের এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে উপজেলার চণ্ডিগড় ইউনিয়নের মউ গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। 

নিহত আবুল কালাম মউ গ্রামের মৃত আবাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে পরিবারের সদস্যরা ঘুম থেকে উঠলে বড় ভাই আব্দুল ছালামের ঘরের বারান্দার ধরনার (আড়ার) সঙ্গে ছোট ভাই আবুল কালামকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। আকস্মিক ও মর্মান্তিক এই দৃশ্য দেখে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। মুহূর্তের মধ্যেই খবরটি পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। পরে স্থানীয়রা দুর্গাপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নিহত আবুল কালাম এবং তার বড় ভাই আব্দুল ছালামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে দুই পরিবারের মধ্যে প্রায়ই কথা কাটাকাটি ও উত্তেজনা বিরাজ করত।

স্থানীয়দের অনেকের ধারণা, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এটি অভিমানে আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত কোনো হত্যাকাণ্ড- সে বিষয়ে পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার আগ পর্যন্ত কেউই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান দুর্গাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক সুরতহাল (ইনকুয়েস্ট) প্রতিবেদন তৈরি করে।

এসআই জাকির হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি এবং বারান্দার ধরনা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা মরদেহটি উদ্ধার করি। মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য মরদেহটি ময়নাতদন্তের নিমিত্তে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’