১৮ জুন ২০২৬, ১০:০৭

গ্রেপ্তারের ভয়ে মুসল্লিদের সিজদায় রেখে পালালেন বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা, অবশেষে ধরা

সিজদায় রেখে পালালেন বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা  © সংগৃহীত

নামাজের ইমামতি করার বাহানায় পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়া সেই আলোচিত ব্যবসায়ী ও বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা গোলাম আজমকে (৪৫) অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি ইমামতি করার ভান করেন এবং নামাজের অনুমতি দেওয়ার এক পর্যায়ে সবাইকে সিজদায় রেখে তিনি পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে তথ্য-প্রযুক্তির সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পল্টন থানা পুলিশ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর আদালতে জাকির হোসেন মিজি বাদী হয়ে গোলাম আজমের বিরুদ্ধে ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইন, ২০১৩’ এর ৩১ (ক) (খ) (ঘ)/৩৩/৩৬ ধারায় একটি প্রতারণা ও মানবপাচার মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে গত ১৫ জুন (সোমবার) পল্টন থানা পুলিশ পুরানা পল্টনে তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

পল্টন থানা সূত্রে জানা যায়, এ সময় আসামি পুলিশের কাছে আসরের নামাজ পড়ার অনুমতি চান। পুলিশ অনুমতি দিলে আসামি তার অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে নামাজের ইমামতি করা শুরু করেন। কিন্তু দ্বিতীয় রাকাতে সিজদা থেকে উঠে মুসল্লিদের রেখে পেছনের দিক দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার আসরের নামাজের সময় হলে আটক গোলাম আজম পুলিশ সদস্যদের অনুরোধ করেন তাকে নামাজ পড়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য। মানবিক কারণে পুলিশ তাকে সেই সুযোগ দিলে তিনি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে নিজেই ইমাম সেজে জামাতে নামাজ শুরু করেন। কিন্তু নামাজের প্রথম রাকাত শেষ করে দ্বিতীয় রাকাতের সিজদা থেকে উঠে পেছনের মুসল্লি ও পুলিশ সদস্যদের স্তম্ভিত করে দিয়ে তিনি দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যান।এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর পল্টন থানার ডিসি এবং ওসি জানান, আসামিকে পুনরায় গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে। অবশেষে আজ বুধবার সকালে নিখুঁত প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে তাকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত গোলাম আজম দীর্ঘদিন ধরে ম্যানপাওয়ার ব্যবসার আড়ালে মানবপাচারের সাথে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মানবপাচার মামলা রয়েছে। তিনি নিজেকে বিএনপির একজন প্রভাবশালী বড় নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক বছর আগেই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বর্তমানে দলে তার কোনো পদ বা সম্পৃক্ততা নেই।এমনকি নিজের রাজনৈতিক প্রভাব জাহির করতে তিনি তার ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপের প্রোফাইল পিকচারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে আসছিলেন বলে তথ্য মিলেছে।

পল্টন থানা পুলিশ জানিয়েছে, আসামির বিরুদ্ধে পূর্বের পরোয়ানা ছাড়াও পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং মামলার অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।