পটুয়াখালীতে ইউপি কার্যালয়ে তালা, উদ্যোক্তাকে মারধরের অভিযোগ
পটুয়াখালীর বাউফলের দাশপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তালা দেওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেনের অপসারণ দাবিতে কয়েকজন ইউপি সদস্য ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অনাস্থাপত্র জমা দেন। এরপরই বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে একদল লোক প্রবেশ করে কর্মচারীদের বের হয়ে যেতে বলেন এবং কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য আল মামুন, ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য রাবেয়া বসরী, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরী এবং উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাসেল ইকবাল দুখুসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ইউনিয়ন পরিষদে আসেন। তারা উপস্থিত উদ্যোক্তা ও কর্মচারীদের বের হয়ে যেতে বলেন এবং পরে কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, তালা দেওয়ার সময় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা ও সাবেক চেয়ারম্যান নুরু মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম মামুনকে মারধর করা হয়। পরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও তাকে আবার মারধর করা হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
তিনি বলেন, তিনি নির্দেশ অনুযায়ী বের হয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু করিডোরে পৌঁছালে আলী আজম চৌধুরীসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে গিয়েও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।
ইউপি সদস্য আল মামুন বলেন, চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে অফিসে আসেন না এবং ইউনিয়নের কার্যক্রমে কোনো সমন্বয় করেন না। প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিষদের কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরী বলেন, তিনি কাউকে মারধর করেননি এবং এসব অভিযোগ সত্য নয়। ঘটনার পর বাউফল থানা পুলিশ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে গতকাল রাতে একটি অনাস্থাপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।