১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১২

আবাসিক হল থেকে ছাত্রের লাশ উদ্ধার, উত্তেজনা-ভাঙচুর

ক্যাম্পাসে উত্তেজনা  © সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল থেকে মেহেদী হাসান (১৫) নামে এক ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, মেহেদীকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালায়।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাত ১২টা পর্যন্ত উত্তেজিত এলাকাবাসী প্রতিষ্ঠানটির সামনে অবস্থান নেয়। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির আবাসিক হল থেকে মেহেদীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মেহেদী রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের রাঘবপুত গ্রামের জিয়াউদ্দিন জিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেহেদীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর রাত ৮টার পর থেকে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির সামনে বিপুল সংখ্যক লোকজন জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান গেট ও অভ্যর্থনা কক্ষে ভাঙচুর চালায় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ সময় রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাইক হাতে উত্তেজিত এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালানো হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানান তিনি।

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ওই ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তাকে হত্যা করা হয়েছে—এমন দাবিকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত এলাকাবাসী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।