কংস নদীতে ভেসে ওঠা শিশুর মরদেহে আঘাতের চিহ্ন, ধর্ষক সন্দেহে আটক ৩
নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর রিয়া মনি (৫) নামের এক শিশুর মরদেহ কংস নদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) সকালে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
জানা গেছে, রবিবার বিকেল ৫টার দিকে ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামে তাজু মিয়ার মেয়ে রিয়া মনি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে ৫০০ গজ দূরে কংস নদের বাঁকে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করে উদ্ধার করেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, রাতেই শিশুটির মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে গোসল করাতে নেওয়া হয়। তখন শিশুটির স্পর্শকাতর স্থানে ক্ষত দেখা যায়। ওই অবস্থায় দাফনের প্রস্তুতি বন্ধ রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
পুলিশ সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে সোমবার সকালে শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
শিশুটির বাবা তাজু মিয়া বলেন, রবিবার আসরের নামাজের পর আমার মেয়ে চা-বিস্কুট খেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যার পর মরদেহ পাওয়া যায়। আমার ছোট মেয়ের সঙ্গে কেউ এমন কাজ করতে পারে, তা কখনো ভাবতে পারিনি। আমার নিষ্পাপ মেয়েকে শেষ করে দিল। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
ধোবাউড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের ধারণা শিশুটিকে ধর্ষণ করে হত্যার পর নদীতে মরদেহ ফেলা হয়। কে এমন কাজ করেছে, তা উদ্ঘাটনে সিআইডি কাজ করছে। আমরা এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ৩ জনকে আটক করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।