১৫ জুন ২০২৬, ০৮:১৬

‘পুলিশকে মাসিক ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করি’, দাবি করা মাদক কারবারি মা-ছেলে গ্রেফতার

কালীগঞ্জ থানা  © সংগৃহীত

প্রশাসন আমার কিছুই করতে পারবে না, আমি প্রতি মাসে পুলিশকে ৬০ হাজার টাকা মাসোহারা দিয়ে ব্যবসা করি— এমন মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার শহর এলাকার নদীপাড়ার রুপালি খাতুন নামে এক নারী মাদক কারবারির বিরুদ্ধে।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ১০টার দিকে স্থানীয়রা তার বাড়িতে গিয়ে মাদক ব্যবসা বন্ধ করার আহ্বান জানালে তিনি এ ধরনের মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে রুপালি খাতুন (৪০) ও তার ছেলে আল-আমিনকে (২২) আটক করে। অভিযানে রুপালির কাছ থেকে ২৫ পিস এবং আল-আমিনের কাছ থেকে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মাদক বিক্রির ১১ হাজার ৭৫ টাকা জব্দ করা হয়েছে। রোববার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

রুপালি খাতুন শহরের নদীপাড়া এলাকার মিজান হোসেনের স্ত্রী এবং আল-আমিন তার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলাজুড়ে মাদকের বিস্তার রোধে এলাকাবাসী সম্প্রতি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। এর আগে ১১ ও ১৩ জুন পাইকপাড়া গ্রাম থেকে দুই যুবককে ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার রাতে স্থানীয়রা শহরের নদীপাড়া এলাকার রাসেল ও রুপালি খাতুনের বাড়িতে যান। 

স্থানীয় বাসিন্দা টিটোন হোসেন বলেন, আমরা স্থানীয় ১৮-২০ জন মিলে নদীপাড়ার কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারির বাড়িতে গিয়ে তাদের মাদক বিক্রি বন্ধ করতে বলি। এ সময় রুপালি নামের এক নারী মাদক কারবারি আমাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং বলেন- প্রশাসনও আমার কিছু করতে পারবে না, আমি থানা পুলিশকে মাসিক ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করি। কিছুক্ষণ পর সেখানে ওসিসহ পুলিশের একটি টিম উপস্থিত হলে স্থানীয়রা ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে থাকেন। পরে পুলিশ সঙ্গে নিয়ে রুপালির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার ও ছেলে আল-আমিনের কাছ থেকে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির ১১ হাজার ৭৫ টাকা উদ্ধারসহ তাদের আটক করা হয়। 

এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তার ও তার ছেলের কাছ থেকে ৪০ পিস ইয়াবা এবং নগদ টাকা উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, কালীগঞ্জ থানার কোনো সদস্য মাদকের একটি টাকাও নিয়েছে—এমন অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। কেউ যদি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে দ্রুত তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।