১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৭

গরুর দড়িতে বেঁধে মাদ্রাসাছাত্রকে হত্যার চেষ্টা, মালিক গ্রেপ্তার

মারকাযুল কুরআন ও এতিমখানা মাদ্রাসা  © সংগৃহীত

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নওয়াপাড়া মৌজায় অবস্থিত মারকাযুল কুরআন ও এতিমখানা মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীর ওপর বর্বর নির্যাতনের অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নাজেরা বিভাগের ১০ বছর বয়সী ছাত্র তামিম আহমেদের ওপর এই পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাওছার মৃধা (৬২) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে নওয়াপাড়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত কাওছার ওই গ্রামের মৃত মোতাহের মৃধার ছেলে এবং স্থানীয় কুচিয়াগ্রাম বটতলা বাজারের একজন মুদি ব্যবসায়ী। ভুক্তভোগী শিশু তামিমের বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলায়।

​স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় কাওছার মৃধা তার একটি গরু ঘাস খাওনোর জন্য মাদ্রাসার মাঠে ছেড়ে দেন। গরুটি মাদ্রাসায় লাগানো চারা গাছ খেয়ে ফেলায় শিশু তামিমসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে সেটিকে মাঠ থেকে তাড়িয়ে দেয়। এতে চরম ক্ষিপ্ত হন কাওছার মৃধা। 

তিনি তাৎক্ষণিক গরুটি নিয়ে এসে শিশু তামিমের গলায় ও কোমরে গরুর রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দেন এবং গরুটিকে তাড়া করেন। ​উত্তেজিত গরুটি অবুঝ শিশুটিকে মাটির ওপর দিয়ে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে মাঠের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে রশিটি খুলে গেলে তামিম প্রাণে রক্ষা পায়। তবে এতেও ক্ষান্ত হননি অভিযুক্ত কাওছার; তিনি আবারও তামিমকে মারধর করতে তেড়ে আসেন। 

এই নির্মমতায় শিশুটির গলায় রশি কেটে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লেগেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ রাতেই তামিমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করায়।

​এ বিষয়ে মাদ্রাসার মোহতামিম হাফেজ ইসমাইল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই বর্বরতার নির্মমতা জাহেলিয়া যুগকেও হার মানিয়েছে। একজন অবুঝ শিশুর ওপর মানুষ কীভাবে এমন নির্যাতন করতে পারে? গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে রশিটি খুলে না গেলে হয়তো শিশুটি আজ মারাই যেত। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

​​ভয়াবহ এই নির্যাতনের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আজ শুক্রবার সকালে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার জন্য মাদ্রাসায় একটি শালিস বৈঠকের আয়োজন করে। কিন্তু নির্যাতনের এমন নির্মমতা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি স্থানীয় যুবসমাজ। তাদের তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মুখে শালিস বৈঠকটি পণ্ড হয়ে যায়।

এদিকে শিশুটির নির্যাতনের ক্ষতবিক্ষত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে।

​আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, 'খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত কাওছার মৃধাকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অপরাধীকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।'

​এদিকে মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের খবর পেয়ে ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা দ্রুত সেখানে তার প্রতিনিধি দল পাঠান। তিনি নির্যাতিত শিশুটির খোঁজখবর নেন এবং তার সবরকম আইনি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়েছেন।