নিখোঁজ নয়, আত্মগোপনে ছিলেন শিবির সেই কেন্দ্রীয় নেতা—নারী নির্যাতনের মামলা
কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার ২৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো. জিসান মিয়া প্রধান আত্মগোপনে ছিলেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ, বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার যৌন নির্যাতন, গর্ভপাত করাতে বাধ্য করা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা দায়েরের তথ্যও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে ছাত্রশিবিরের দাবি, ‘জিসানকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।’
শুক্রবার (১৩ জুন) গভীর রাতে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়।
বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ বলে, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৮টা ২৯ মিনিটে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো. জিসান মিয়া প্রধান দাউদকান্দি হতে নিখোঁজ হিসেবে শুক্রবার দাউদকান্দি থানায় এসে তার পক্ষে মো. রাসেল আহম্মেদ জিডি করেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় দাউদকান্দি বাজার এলাকা হতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করেন তিনি।
আরও বলা হয়, এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়। জিডির প্রেক্ষিতে উদ্ধারের জন্য জেলা পুলিশের একাধিক টিম উদ্ধার কাজে তৎপর হয়। অনুসন্ধানকালীন প্রথমত নিখোঁজ জিসানের চাচাতো ভাই সজীবের মাধ্যমে জানা যায়, গত ৫/৬ মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক বিধবা নারীর (২৫) সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে কথাবার্তা শুরু হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।
আরও পড়ুন: নতুন পে স্কেলে বেতন বাড়বে দ্বিগুণ থেকে আড়াইগুণ, অনুপাত ১:৯
অনুসন্ধান আরো জানা যায়, গত ২০ মে দাউদকান্দি থানাধীন জিসানের ভাড়া বাসায় ওই নারীকে জিসান ধর্ষণ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় জিসান বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে জিসান ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এক পর্যায়ে বাচ্চা নষ্ট না করলে ভুক্তভোগীকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন জিসান। পরে ওই নারী প্রাণের ভয়ে বাচ্চা নষ্ট করতে রাজি হন।
এসময় জিসান তার বন্ধু সেকান্দার আলীর ওষুধের দোকান থেকে বাচ্চা নষ্ট করার ট্যাবলেট কিনে ভুক্তভোগীকে খাওয়ালে ভ্রূণ নষ্ট হয়। এসময় ওই নারীর সুস্থতার জন্য জিসান তার চাচাতো ভাই সজীবের মাধ্যমে পুনরায় ফার্মেসি থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে ভুক্তভোগীর বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরে ভুক্তভোগী নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এক পর্যায়ে জিসান ১২ জুন বিয়ে করতে রাজি হন। এর আগে ১১ জুন রাত ৮টার পর পর বিয়ে না করার টালবাহানায় জিসান নিজেই আত্মগোপন করে তার চাচাতো ভাই মো. রাসেল আহম্মেদের মাধ্যমে দাউদকান্দি থানায় উল্লিখিত জিডি করান। পরবর্তীতে নিখোঁজ জিডির অনুসন্ধানকালীন সময়ে কুমিল্লার লাকসাম থানা এলাকা স্থানীয় লোকজন ও লাকসাম থানা পুলিশের মাধ্যমে আত্মগোপন থাকা জিসান মিয়া প্রধানকে উদ্ধার করা হয়।
পরে ভুক্তভোগী নারী থানায় হাজির হয়ে জিসানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগের প্রেক্ষিতে দাউদকান্দি থানায় মামলা হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
উদ্ধারের পর ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক ও ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, নিখোঁজের ২৬ ঘন্টা পর কুমিল্লার লাকসাম জংশন থেকে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় তাকে লাকসাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ করছেন।
এর আগে গতকাল (১১ জুন) রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ শেষে বের হওয়ার পর থেকে জিসান নিখোঁজ হন। ঘটনার পরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে অবহিত করা হয়। তবে কোনো ফল না পাওয়ায় আজ ভোরে পরিবারের সদস্যরা পুনরায় থানায় যান। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর সকাল ৯টায় তারা পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান। উদ্ধারের বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলেও পুলিশ দায়সারা আচরণ করে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকে বলে অভিযোগ করে শিবির।