স্ত্রী হত্যা মামলায় ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার
সাভারে স্ত্রী রিয়া মনি (২১) হত্যা মামলায় সাভার পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রনি চৌধুরী ওরফে রনি ইসলামকে (২৩) রংপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানার দারোগার মোড় সাতমাথা সবুজপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাভার মডেল থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রনির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত রিয়া মনি সৌদি আরব প্রবাসী আব্দুর রউফ ও মালয়েশিয়া প্রবাসী বিউটি বেগমের একমাত্র সন্তান। দীর্ঘ ছয় বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর প্রায় দেড় বছর আগে রনি চৌধুরীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা সাভারের ছায়াবীথি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, সম্প্রতি বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ ও মনোমালিন্য চলছিল। গত ৮ জুন সকালে রনির মা রিনা আক্তারকে ফোন করে রনিই প্রথম রিয়া মনির মৃত্যুর খবর জানান।
খবর পেয়ে রিয়ার মামা সাদ্দাম হোসেন ঘটনাস্থলে গেলে বাসার দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রিয়া মনির লাশ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মামা সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় রনি চৌধুরীসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে রিয়া মনিকে হত্যা করে বাসার দরজায় তালা লাগিয়ে আসামিরা পালিয়ে যায়।
মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে রনির অবস্থান শনাক্ত করে রংপুরে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সাভার মডেল থানার ওসি (তদন্ত) নুর মোহাম্মদ জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হবে। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে।