১০ জুন ২০২৬, ১০:২৫

এবার রামিসার পাশের বাসা থেকে পাঁচ বছরের শিশু নিখোঁজ, সিসি ক্যামেরা ফুটেজে রহস্য

নিখোঁজ শিশু  © সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে সম্প্রতি আলোচিত শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই এলাকায় পাঁচ বছর বয়সী ইব্রাহিম নামে আরেক শিশুর রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনা উদ্বেগ তৈরি করেছে। চার দিন পেরিয়ে গেলেও শিশুটির কোনো খোঁজ মেলেনি। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। তবে পরিবারের সন্দেহের তীর বাড়িওয়ালার ছেলেদের দিকে থাকলেও পুলিশ বলছে, এখন পর্যন্ত তাদের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ ইব্রাহিমের পরিবার জানায়, শিশুটির বয়স পাঁচ বছর। তার বাবা পেশায় ফুসকা বিক্রেতা। তিন সন্তানের মধ্যে ইব্রাহিম সবার ছোট। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিনও অন্য দিনের মতো বাসার সামনেই খেলছিল সে।

সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটে ইব্রাহিমকে হঠাৎ বাসার ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তবে সে একা ছিল না। তার পেছনে আরেক ব্যক্তিকেও ভবনের ভেতরে ঢুকতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে ইব্রাহিমের চিৎকার শোনা যায় বলে দাবি পরিবারের। এরপর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ওই ব্যক্তিকে দ্রুত ভবন থেকে বের হয়ে যেতে দেখা গেলেও শিশুটিকে আর কোথাও দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন: ঘরে ঢুকে ছুরিকাঘাতে নারীকে হত্যা

জানা গেছে, ইব্রাহিমের পরিবার যে ভবনে বসবাস করে, সেটি সম্প্রতি হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসার বাসা থেকে মাত্র তিন গলি দূরে অবস্থিত। ভবনটির ছাদে সবার প্রবেশাধিকার নেই। ঘটনার সময় ছাদটি তালাবদ্ধ ছিল এবং ছাদের একমাত্র চাবি ছিল বাড়ির মালিকের কাছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে শিশুটি কোথায় গেল, তা নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় এক দশক ধরে তারা ওই এলাকায় বসবাস করছেন। প্রতিবেশী কিংবা স্থানীয় কারও সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের বিরোধ বা শত্রুতা নেই। তবে তাদের অভিযোগ, বাড়িওয়ালার দুই ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত। জুয়া ও মাদকের অর্থ জোগাড় করতেই তারা পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করে থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করছেন তারা।

ইব্রাহিমের বাবা বলেন, ‘আমরা এখানে ১০ বছর ধরে আছি। কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। বাড়িওয়ালার দুই ছেলে নেশা আর অনলাইন জুয়া খেলেন। আমাদের ধারণা, টাকার জন্যই তারা আমার নিষ্পাপ সন্তানকে আটকে রেখেছেন।’

পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অভিযোগটি তদন্ত করছি। তবে তারা আমাদের কাছে বাড়িওয়ালার ছেলেদের বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেননি।’

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মিরপুর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘প্রথমে ভুক্তভোগীর পরিবার আমাদের কাছে একটি জিডি করে। পরে আমরা তদন্ত করে দেখলাম বিষয়টি একটু জটিল তাই এটিকে আমরা মামলায় হিসেবে রুজু করেছি। আমাদের টিম অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এটি তদন্ত করছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাড়িওয়ালার ছেলের বিষয়টি সামনে আসায় আমরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় করছি ভালো করে। কোন ক্লু পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।