রাতভর অভিযানে ৯০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২
নওগাঁ জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৯০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) ভোরে নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল উপজেলার পাড়ইল ইউনিয়নের তুলার বাঐল গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন তুলার বাঐল গ্রামের এজামুলের ছেলে হামেদুল ইসলাম (৩৫) ও একই গ্রামের আজমুদ্দিনের ছেলে রশিদ (৪৪)। গ্রেপ্তারের সময় উদ্ধারকৃত ৯০ কেজি শুকনা গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৬ জুন পাড়ইল ইউনিয়নে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনার বিষয়ে পুলিশ সুপারের কাছে তথ্য আসে। বিষয়টি তদন্তের জন্য নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। তদন্তের একপর্যায়ে ৭ জুন রাতে হামেদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে আরও ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
হামেদুল ইসলামের জবানবন্দির ধারাবাহিকতায় ৮ জুন ভোররাতে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় এবং নিয়ামতপুর থানার ওসির নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম উপজেলার পাড়ইল ইউনিয়নের তুলার বাঐল গ্রামের একটি বাড়িতে রাতব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে। রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে ৯০ কেজি শুকনা গাঁজা উদ্ধার এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন:পাবনায় ৩ ঘণ্টায় ২ খুন, বিকেলে ছুরিকাঘাত, সন্ধ্যায় ছেলের সামনে বাবাকে গুলি
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকা থেকে বিভিন্ন সময়ে ট্রাক ও হাইস মাইক্রোবাসযোগে গাঁজা সংগ্রহ করে ওই বাড়িতে মজুদ রাখা হতো। বাড়িটির দোতলা ভবনটি মাদকের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। সেখান থেকে নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে গাঁজা সরবরাহ করা হতো।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। মাদক নির্মূলে চলমান অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।