০৭ জুন ২০২৬, ১৫:২০

ঈদে ৩৯৪ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০২, বেশির ভাগই মোটরসাইকেল

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি  © সংগৃহীত

সদ্য সমাপ্ত ঈদুল আজহায় দেশের সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৪৪২টি দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ১৩৪০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল সড়কেই ৩৯৪টি দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত এবং ১২৯৪ জন আহত হয়েছেন। বিগত ২০২৫ সালের ঈদুল আজহার তুলনায় এবার সড়ক দুর্ঘটনা ৩.৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৩.০৭ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ৯.৪৭ শতাংশ বেড়েছে।

রবিবার (০৭ জুন) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, গত ২১ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ১৫ দিনের ঈদযাত্রায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরাবরের মতোই এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল; ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত ও ১৮০ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮.৮৩ শতাংশ। এছাড়া রেলপথে ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন এবং নৌ-পথে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে সড়কে তৈরি হওয়া ছোট-বড় গর্ত, বেপরোয়া গতি, চালকদের আইন অমান্য করার প্রবণতা এবং ঈদযাত্রায় চালক সংকটের কারণে বিশ্রামহীনভাবে গাড়ি চালানোই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। এছাড়া কতিপয় বাস মালিকের অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের মানসিকতায় ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন রাস্তায় নামানোয় অসংখ্য যাত্রী বোঝাই বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। নিম্নআয়ের মানুষ বাসের ছাদে বা পণ্যবাহী ট্রাকে যাতায়াত করতে বাধ্য হওয়াও দুর্ঘটনা বাড়ার অন্যতম কারণ।

সংগঠিত সড়ক দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট দুর্ঘটনার ৫০.৫০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০.৭১ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ১৪.৪৬ শতাংশ ফিডার রোডে ঘটেছে। এর মধ্যে ৪৬.৪৪ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং ২৯.১৮ শতাংশ গাড়ি চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা। দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ২৮.৯০ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১.৪০ শতাংশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান এবং ১৬.৫৬ শতাংশ বাস ছিল।

ঈদযাত্রায় বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে সরকারের ১০-১২ দিনের তৎপরতার বাইরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে উন্নত বিশ্বের আদলে আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক ও প্রযুক্তি নির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন উচ্ছেদ, মহাসড়ক থেকে ছোট যানবাহন ক্রমান্বয়ে অপসারণ এবং চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে লাইসেন্স নিশ্চিত করাসহ বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে।