০৩ জুন ২০২৬, ১৮:৩৩

সেন্টমার্টিনে পরিবেশ অধিদপ্তরের পাশেই চলছে অবৈধভাবে হোটেল-রিসোর্ট নির্মাণ

নির্মাণাধীন সান অ্যান্ড স্যান্ড টুইন বিচ রিসোর্ট  © টিডিসি ফটো

প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে নতুন করে হোটেল ও রেস্তোরাঁ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গলাচিপা এলাকায়, সৈকতসংলগ্ন পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ের পাশেই ‘সান অ্যান্ড স্যান্ড টুইন বিচ রিসোর্ট’ এর অধীনে তিনতলা ফাউন্ডেশনবিশিষ্ট একটি রেস্তোরাঁ নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ের কাছাকাছি গলাচিপা এলাকায় নতুন একটি হোটেল ভবন নির্মাণের বিষয়টি আমরা জেনেছি। পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। নির্মাণসামগ্রী কোথা থেকে এসেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের মালামাল বিক্রির কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে ‘সান অ্যান্ড স্যান্ড টুইন বিচ রিসোর্টের পরিচালক ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘এটি নতুন কোনো নির্মাণকাজ নয়, আগের চলমান কাজ। বর্তমানে অর্থসংকটের কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে।’ তবে নির্মাণকাজের অনুমোদন ছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

কক্সবাজারভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) প্রধান নির্বাহী এম. ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, ‘প্রশাসনের কার্যকর তদারকির অভাবে প্রবাল দ্বীপে নতুন করে দালানকোঠা নির্মাণ হচ্ছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এভাবে চলতে থাকলে একসময় সেন্টমার্টিন তার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলবে।’

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘সেন্টমার্টিনে নতুন করে হোটেল-রেস্তোরাঁ করার কোনো সুযোগ নেই। কয়েক দিন আগে আমরা একটি হোটেল নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। এ বিষয়ে কোনো ছাড় নেই, আমরা নতুন দালানকোঠা নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেব।’ 

উল্লেখ্য, সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দায়ের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ দ্বীপে নতুন পাকা স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষিত এই দ্বীপে নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই।