৩১ মে ২০২৬, ১৬:৫৭

নাফ নদীতে সশস্ত্র ডাকাত দলের তাণ্ডব, দুই রোহিঙ্গা আটক

নাফ নদী  © সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদীতে প্রকাশ্য দিবালোকে মিয়ানমারভিত্তিক রোহিঙ্গা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের তৎপরতায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত দুর্বৃত্তদের ফাঁকা গুলিবর্ষণ, একটি জেলে নৌকাকে ধাওয়া এবং পরে নৌকাটি ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে টেকনাফের হ্নীলা ৩ নং ওয়ার্ডে সুলিশপাড়া সীমান্তের নাফ নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে তিনজন সশস্ত্র ব্যক্তি একটি জেলে নৌকাকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে নাফ নদীর হ্নীলা অংশে এসে তারা ফাঁকা গুলিবর্ষণ করলে জেলে নৌকায় থাকা দুই ব্যক্তি প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন। এরপর দুর্বৃত্তরা জেলে নৌকাটি নিজেদের নৌকার সঙ্গে বেঁধে মাঝ নদীতে নিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, নৌকায় থাকা মাছ ধরার জালসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে নেওয়ার পর নৌকাটি ডুবিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার সময় ঈদ উপলক্ষ্যে বেড়িবাঁধ এলাকায় ঘুরতে আসা অসংখ্য মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

উপস্থিত অনেকেই ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে দুর্বৃত্তদের হাতে অত্যাধুনিক একে-৪৭ সদৃশ অস্ত্র দেখা যায়। পরে নদী থেকে তীরে উঠে আসা দুই রোহিঙ্গাকে আটক করে বিজিবি।

এ ঘটনায় রাতে বিজিবি ব্যাটালিয়ন-৬৪ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, শনিবার বিকেলে হ্নীলা সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদীতে বাংলাদেশের জলসীমার মধ্যে একটি জেলে নৌকাকে ধাওয়া করে তিন সদস্যের একটি রোহিঙ্গা ডাকাত দলের নৌকা। জেলেদের নৌকা না থামায় ডাকাতরা এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে নৌকায় থাকা দুই ব্যক্তি প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন।

ফাঁকা গুলির শব্দ শুনে বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যায়। এসময় ডাকাত দলের নৌকাটি বেড়িবাঁধ থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে নদীর অভ্যন্তরে অবস্থান করছিল। পরে পানিতে থাকা দুই রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে আটক করা হয়।

বিজিবি আরও জানায়, পরবর্তীতে ডাকাত দলের নৌকাটি সুলিশপাড়া হয়ে বিওপির সামনে দিয়ে চর কাব্যিকের দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় বিজিবি তাদের ধাওয়া করে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তবে শেষপর্যন্ত ডাকাত দলটি পালিয়ে যায়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটক দুই রোহিঙ্গা ইয়াবা আনার উদ্দেশ্যে নদীপথে গিয়েছিল এবং প্রতিদ্বন্দ্বী আরেকটি রোহিঙ্গা ডাকাত দল ওই মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য হামলা চালায়। আটক দুই রোহিঙ্গা হলো, ইমাম হোসেন (২৫) ও নুরুল আমিন (২৩)। তারা উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বিজিবি জানিয়েছে, আটক দুই রোহিঙ্গাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

ঘটনাটি সীমান্ত এলাকায় নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ুন রশিদ বলেন, নাফ নদীতে রোহিঙ্গা ডাকাত চক্রের তৎপরতা রোধে আরও কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।' 

এ বিষয়ে হ্নীলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদীতে সশস্ত্র ডাকাত দলের গুলিবর্ষণের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত ও ঘোরাফেরা না করার জন্য স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে।