২৫ মে ২০২৬, ২২:৫০

এক পুলিশের স্ত্রীকে বিয়ে আরেক পুলিশের, তালাকের পর ফের বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ

অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল মিজানুর রহমান ও ভুক্তভোগী  © সংগৃহীত

সহকর্মী পুলিশ কনস্টেবলের ঘর থেকে ফুসলিয়ে এনে বিয়ের কিছুদিন পর স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান (২৯) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে পুনরায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) শেরপুরের নালিতাবাড়ী থানায় প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী তরুণী (২৩) বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণীর বাড়ি ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা বাজার এলাকায়। অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল মিজানুর রহমানের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার তাম্বুলিটোলা গ্রামে।

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানায় কর্মরত থাকাকালীন সহকর্মী এক কনস্টেবলের স্ত্রীর ওপর নজর পড়ে মিজানের। একপর্যায়ে ওই তরুণীকে ফুসলিয়ে তার ৪ বছর বয়সী কন্যাসন্তানসহ ২০২৩ সালের ৭ জুলাই বিয়ে করেন কনস্টেবল মিজানুর রহমান। তবে প্রায় দেড় বছর সংসার করার পর, গত ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি তিনি স্ত্রীকে তালাক দেন। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী তরুণী মিজানুরের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলে কনস্টেবল মিজানুর রহমান সাময়িকভাবে বরখাস্ত হন।

সম্প্রতি বরখাস্ত হওয়া কনস্টেবল মিজানুর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পুনরায় তার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। একপর্যায়ে আবারও বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে গত ৯ মে ওই তরুণীকে নিয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাতা গ্রামে তরুণীর নানাবাড়িতে আসেন তিনি। সেখানে রাতে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য তরুণীকে চাপ দেন এবং তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তবে পরদিন সকালেই মিজানুর কৌশলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী তরুণী সোমবার নালিতাবাড়ী থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।