১৯ মে ২০২৬, ১০:০১

সন্ত্রাসীদের গুলিতে দুই অটোরিকশা চালক গুলিবিদ্ধ

চট্টগ্রামে দুই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটেছে  © টিডিসি ফটো

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়ায় পৃথক দুই স্থানে দুই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের আমিরবাপের পাড়া ও একই ওয়ার্ডের হরিঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধরা হলেন উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের বড়ঘোনা এলাকার শাহ আলমের পুত্র কাইয়ুম শরিফ (১৯) ও বড়হাতিয়া ইউনিয়নের নতুন পাড়া এলাকার হামিদ হোসেনের পুত্র মো. আকিব (২০)। তারা দুজনই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক।

গুলিবিদ্ধ আকিবের চাচা শ্বশুর আব্দুল গণি কালবেলাকে জানান, স্থানীয় একটি পাহাড়ি সন্ত্রাসী গ্রুপ আকিবের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। আকিব এরমধ্যে তিন হাজার টাকা চাঁদা দেয় তাদেরকে। বাকি ১৭ হাজার টাকার দাবিতে বারবার তারা তাকে হুমকি দিয়ে আসছিল। টাকা না পাওয়ায় আজকে সন্ধ্যার দিকে আকিব ভাড়া নিয়ে আমিরবাপের পাড়া গেলে ওত পেতে থাকা ওই সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলি এসে লাগে আকিবের পেটে ও হাতে।

অপরদিকে গুলিবিদ্ধ কাইয়ুম শরিফ জানান, চুনতি বাজার থেকে ভাড়া নিয়ে ঘোনার মোড় হয়ে হরিঘোনা এলাকায় যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে চলে আসার সময় কে বা কারা তাকে গুলি করে। এতে পিটের একাধিক স্থানে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবদুল্লাহ আল ফাহিম জানান, গুলিবিদ্ধ দুই জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করা গেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।চ

শুরুর দিকে পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলে দুটি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রুপের উৎপত্তি হয়। এরমধ্যে বিগত কয়েক দশকে বিভিন্নসময়ে দু-গ্রুপের গোলাগুলিতে বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ আছে তারা এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের ক্ষুদ্র, মাঝারি ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের দেওয়া হয় প্রাণনাশের হুমকি। তাদের দৌরাত্ম্য এতটাই বেড়েছে যে, কেউ এখন তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়না।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, প্রশাসনের দ্বারা সম্ভব নয় এমন কোনো কাজ নেই। সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের মতো সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য গুড়িয়ে দিতে পারলে এটি কেন সম্ভব নয়, এই প্রশ্ন তোলেন তারা। পুলিশ প্রশাসন প্রয়োজনে অন্যান্য বাহিনীর সহায়তায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করলে এই অঞ্চল সন্ত্রাসী মুক্ত করা সম্ভব বলেও মনে করেন তারা।