স্বামীকে হত্যার পর হাড়-মাংস আলাদা করেন স্ত্রী, ভাড়াটিয়ার ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা
শরীয়তপুর সদর উপজেলায় স্বামীকে হত্যার পর হাড়-মাংস আলাদা করেন স্ত্রী আসমা আক্তার (৩৫)। পরবর্তীতে সেই মাংস ভাড়াটিয়ার ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা পড়েন তিনি।
শুক্রবার (১৫ মে) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ থেকে অভিযোগ পেয়ে উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের পালং এলাকা থেকে পুলিশ তাকে আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে জিয়া (৪২) ও আসমার বিয়ে হয়। উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। তারা সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহের জেরে গত মঙ্গলবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আসমা আক্তার লোহার রড দিয়ে জিয়া সরদারের মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ড গোপন করতে আসমা মরদেহটি কয়েক টুকরো করে হাড় ও মাংস আলাদা করেন। এরপর দেহাংশগুলো একটি ড্রামে ভরে তিন দিন বাসায় রেখে দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, হত্যার পর মরদেহ লুকাতে টুকরো টুকরো করেন আসমা। এরপর হাড় ও মাংস আলাদা করে ড্রামে ভরে রাখেন। গত সন্ধ্যায় তিনি অটোরিকশা ভাড়া করে মরদেহের কিছু অংশ বিভিন্ন জায়গায় ফেলে আসেন। মাংস এক ভাড়াটিয়ার ফ্রিজে রাখতে যান আসমা। তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় ভাড়াটিয়াদের সন্দেহ হয়, তারাই ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন।
তবে আসমা দাবি করেছেন, জিয়াই তাকে আগে হত্যার চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষায় তিনি রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে জিয়ার মৃত্যু হয়।
আসমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী বিভিন্ন মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতো। নিষেধ করলে আমাকে মারধর করতো। ঘটনার রাতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন দেখি আমার স্বামী আমার গলায় ধারালো অস্ত্র (বটি) ধরেছে। এরপর আমাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে আমি রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করি। এতে সে মারা যায়। পরে ভয় পেয়ে মরদেহ লুকানোর জন্য ছুরি দিয়ে টুকরো করি এবং বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দিই।
পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, আসমা দাবি করেছেন, তিনি একাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্তে উঠে আসবে।