পুলিশ সুপার নিজেই ছিনতাইয়ের শিকার, খোয়ালেন ব্যাগ-মোবাইল
ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে ধানমন্ডি থানায় ছুটে আসেন পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা ইয়াসমিন। তিনি জানান, মাত্র দুইদিন আগেই ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে তিনিও এই চক্রের কবলে পড়েছিলেন। হারিয়েছেন নিজের ব্যাগ ও মোবাইল।
গত শনিবার (৯ মে) রাতে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে অটোরিকশায় ফেরার সময় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে সোমবার (১১ মে) ভোরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকায় এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালিত করে পুলিশ।
এসময় ৩ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে ধানমন্ডি থানায় ছুটে আসা এসপি শামীমা ইয়াসমিন বলেন, ‘শনিবার রাতে ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে অটোরিকশায় ফেরার সময় একটি কালো মোটরসাইকেল আমার ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে যায়। ছিনতাইকারী ধরার খবরে আমার ফোনটি উদ্ধার হয়েছে কি না দেখতে এসেছি।’
পুলিশ জানায়, সোমবার ভোরে ধানমন্ডি ২৭ এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে ছিনতাই করছিল একটি চক্র। পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে ছিনতাইকারীরা মোহাম্মদপুরের দিকে পালিয়ে যায়। মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকায় পৌঁছালে তারা পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ৪ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করলে এক ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। অভিযানে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান স্থল থেকে বিভিন্ন ধরনের ছুরি, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, খেলনা পিস্তল এবং ছিনতাই করা ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, পলাশ ও সাকিব। তারা আপন দুই ভাই এবং গাজীপুর জেলার টঙ্গী পূর্ব থানার বাসিন্দা। গ্রেপ্তার হওয়া অপর সদস্য বিপ্লব হোসেন তাদের আপন বোন জামাই। পুলিশ বলছে, এই ‘পারিবারিক’ চক্রটি মোটরসাইকেলে করে রাতের অন্ধকারে রাজধানী জুড়ে অটোরিকশা যাত্রী ও পথচারীদের মালামাল ছিনতাই করে আসছিল।
রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি প্রশাসন) মীর আসাদুজ্জামান জানান, ‘চক্রটিতে মোট ৫ জন সদস্য ছিল। তাদের ধরতে রাত থেকেই অভিযান চলছিল। ভোরে টাউন হল এলাকায় তারা পুলিশের ওপর আক্রমণ করলে পুলিশ ৪ রাউন্ড গুলি চালায়। এতে এক ছিনতাইকারী পায়ে গুলিবিদ্ধ হয় এবং ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’