১০ মে ২০২৬, ২১:০০

কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর আত্মহত্যা, জামিন চাইতে এসে কারাগারে স্বামী

নিহত জান্নাতুন নাঈম ফারিয়া ও তার স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয়  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী জান্নাতুন নাঈম ফারিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় প্রধান আসামি ও ফারিয়ার স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয়কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে একই মামলায় অভিযুক্ত তার পরিবারের অন্য চার সদস্য জামিন পেয়েছেন।

রবিবার (১০ মে) কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল মমিন এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী তাফসীরুল আলম।

তিনি বলেন, ফারিয়ার বাবা নাঙ্গলকোট উপজেলার দৌলখাঁড় ইউনিয়নের কান্দাল গ্রামের স্কুলশিক্ষক মো. হানিফ গত বুধবার রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে আসামিরা আত্মগোপনে ছিলেন। আজ আদালতে হাজির হলে বিচারক ফারিয়ার স্বামী মেহেদীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রধান আসামি মেহেদী হাসান হৃদয় ছাড়াও তার বাবা আবদুর রহিম, মা আফরোজা বেগম, ননদ রীমা আক্তার ও রীমার স্বামী জাকারিয়া আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত হৃদয়কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং বাকি চারজনের জামিন মঞ্জুর করেন।

এজাহারে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় ফারিয়া ও হৃদয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে হৃদয় ও তার পরিবারের সদস্যরা পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা এনে দিতে না পারায় ফারিয়াকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।

ফারিয়ার বাবা মো. হানিফ বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। প্রধান আসামিকে রিমান্ডে নিলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, আদালত প্রধান আসামি হৃদয়ের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। তাঁকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করা হবে।

এর আগে, গত মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা নগরের মনোহরপুর মুন্সেফবাড়ি এলাকার কাশেম গার্ডেন নামের ভবনের শ্বশুরবাড়ির ফ্ল্যাট থেকে জান্নাতুন নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর ফারিয়ার স্বামী মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা মেহেদী হাসান এলাকা থেকে পালিয়ে যান।

জান্নাতুন নাঈম কুমিল্লার সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি নাঙ্গলকোট উপজেলার কান্দাল গ্রামে।