০৫ মে ২০২৬, ২০:৫০

অবৈধ বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজিসহ অভিযোগের পাহাড় জেলা ছাত্রদল সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে

সাইদুল ইসলাম রনি  © সংগৃহীত

ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম রনির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং অবৈধ বালু উত্তোলনসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি নলছিটি উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন। বিতর্কিত এই নেতাকে জেলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রদান করায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১০ জানুয়ারি ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি মো. আরিফুর রহমান খান ও সাধারণ সম্পাদক গিয়াস সর্দার দিপু কেন্দ্রীয় সংসদের কাছে রনির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। 

২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রনি প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন। ওই সময় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে তিনি ভবিষ্যতে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ না করার অঙ্গীকার করেছিলেন।

২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত এক দোয়া অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে হট্টগোল করেন রনি। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টুর নাম ঘোষণা করায় তিনি উত্তেজিত হয়ে গালিগালাজ ও মারমুখী আচরণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তেঁতুল বাড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ী জামাল হোসেন মল্লিকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করার অভিযোগ ওঠে রনির বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ১২ সেপ্টেম্বর নলছিটি থানায় একটি সাধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ঝালকাঠি দ্রুত বিচার আদালতে একটি মামলা করা হয়, যেখানে রনি ৩ নম্বর আসামি।

এছাড়াও নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন ও সরবরাহের জন্য গঠিত একটি ‘তথাকথিত’ কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সাইদুল ইসলাম রনি বলেন, রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের কারণে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। স্থানীয় দ্বন্দ্বের জেরে আমার নামে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয়েছিল, তবে তদন্ত প্রতিবেদনে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন। অন্য সব অভিযোগই ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের দীর্ঘ তালিকা থাকা সত্ত্বেও সাইদুল ইসলাম রনিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করায় ঝালকাঠি বিএনপিতে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। তৃণমূল কর্মীদের মতে, এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।