কোরিয়ান ইপিজেডে গাছ কাটা নিয়ে অস্ত্র হাতে দফায় দফায় সংঘর্ষ, জড়িতদের চিহ্নিত করেছে পুলিশ
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) এলাকায় গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এ সহিংসতায় কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত কয়েকজন আহত হন। হামলাকারীরা পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের কিছু স্থাপনাতেও ক্ষয়ক্ষতি চালায়।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে কেইপিজেড এলাকায় গাছ কাটতে আসা একটি চক্রকে নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে গাছ কাটা চক্রের সদস্যরা তাদের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে রাত ৮টার পর থেকে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়, যা রাত সাড়ে ৯টার দিকে দক্ষিণ গেইট এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে একই এলাকায় গাছ কাটতে বাধা দেওয়ায় তোবারক আলী (৪৫) নামের এক নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করে তাঁর হাত ভেঙে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযানে নামে। ওই মামলার আসামিদের ধরতে গিয়ে নতুন করে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, গাছ কাটা চক্রের নেতৃত্বে থাকা সালাউদ্দিনের অনুসারীরা দা, কিরিচ ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। তারা এলাকায় অবাধে গাছ কাটতে চেয়েছিল এবং নিরাপত্তারক্ষী কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো বাধা মেনে নিতে রাজি ছিল না।
সংঘর্ষের সময় হামলাকারীদের হাতে দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। হামলাকারীরা পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে এবং কেইপিজেডের ভেতরের কিছু স্থাপনাতেও হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং রাতের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ বিষয়ে শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান বলেন, গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে গেলে তারা পুলিশের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করে এবং নিরাপত্তারক্ষীদের ওপরও কয়েক দফায় হামলা চালায়। নিরাপত্তারক্ষীরা পুলিশকে তথ্য দিয়েছে, এমন সন্দেহ থেকেই হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
জানতে চাইলে কেইপিজেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘গাছ কাটায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই মূলত এই ঘটনার সূত্রপাত। প্রথমে নিরাপত্তারক্ষীর ওপর হামলা করা হয়। পরে মামলা দায়েরের পর আসামিদের ধরতে গেলে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়। এতে আমাদের কিছু স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (কর্ণফুলী) জামাল উদ্দিন চৌধুরী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’