০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৩৫

ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মাদ্রাসাছাত্র গুলিবিদ্ধ

ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মাদ্রাসাছাত্র গুলিবিদ্ধ  © টিডিসি সম্পাদিত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ইমরান হোসেন নামে এক মাদ্রাসাছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে ফতুল্লা থানার পঞ্চবটি চাঁদনী হাউজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। 

গুলিবিদ্ধের ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, ‘ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এক মাদ্রাসা ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ইমরান হোসেনের (১৪) স্বজন নাদিম হোসাইন বলেন, ‘ইমরান পঞ্চবটির চাদনী হাউস এলাকার একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে খাবার খেতে বাসায় আসে। খাওয়া শেষ করে পুনরায় মাদ্রাসা যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়।’ 

তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে সন্ত্রাসীদের দুট গ্রুপে সংঘর্ষ চলছিল। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে গুলাগুলি শুরু হলে রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ইমরানের গায়ে গুলি এসে লাগে। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্মরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করেন।

পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইমরানকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেলের ইমার্জেন্সি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। মেডিকেলে নিয়ে আসার পর তাকে ১০২ নাম্বার ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তারপর প্রাথমিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের পর দুপুর ২টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় ৬ ঘন্টা অপারেশন করার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ইমরানের অপারেশন সম্পন্ন হয়। অপারেশন চলাকালীন ৪ ব্যাগ রক্ত ইমরানকে দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বরত ডাক্তার জানিয়েছেন, ইমরানের গুলিটি এখনো বের করা সম্ভব হয়নি। তাকে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে (পুরাতন বিল্ডিং, দোতলা ২০২ নম্বর রুম) রেখেছেন। ডাক্তার বলেছেন ইমরানের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক, যেকোনো সময় তার অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি গ্রুপের অভি তার দলবল নিয়ে চাঁদনী হাউজিংয়ের বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট কারখানায় ঝুট নামাতেন। কয়েকদিন ধরে ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ, এনায়েতনগর ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খোকা মিয়া এবং ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদ দলবল নিয়ে সেখানে ঝুট নামাতে বাধা দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

সংঘর্ষের দিন সকাল থেকেই উভয়পক্ষ কারখানার দুই পাশে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি ও ককটেল নিক্ষেপ করে।

এ সময় মাসুদ গ্রুপের রাকিব এবং পথচারী মাদ্রাসাছাত্র ইমরান হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়। গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান নেন।

ইমরানের বাবা আসমাউল হোসেন জানান, মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে তার ছেলে বুকের নিচে গুলিবিদ্ধ হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। বর্তমানে সে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

এনায়েতনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খোকা মিয়া অভিযোগ করেন, হাজী মাসুদুর রহমান মাসুদের নেতৃত্বে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গুলি ছোড়ে এবং তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক বিরোধ। বৈধভাবে ঝুট নামাতে গেলে তাদের ওপর হামলা করা হয় এবং এ ঘটনায় তিনি জড়িত নন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) হাসিনুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ওয়েস্টেজ মালামাল নিয়ে বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।