০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৫

২৪ ঘণ্টায় ৫ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু

প্রতীকী ছবি  © টিডিসি ফটো/এআই

২৪ ঘণ্টায় দেশের দুই মেডিকেল কলেজ ও তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে। এর মধ্যে তিনজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। বাকি দুইজন শিক্ষার্থী অসুস্থ্যতাজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছেন। বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সময়ে তাদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর হাজারীবাগের মনেস্বর রোডের ভাড়া বাসায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সীমান্ত ‘বিষাক্ত দ্রব্য পানে’ আত্মহত্যা করেন। হাজারীবাগ থানার এসআই জাহিদ হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, রাত দেড়টার দিকে আমরা খবর পেয়ে ঢামেক হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসক জানিয়েছেন, নিহত শিক্ষার্থী ছারপোকা মারার ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজি বিভাগের ৪৪তম আবর্তনের সাবেক শিক্ষার্থী সাবিত মাহমুদ শাওনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তুরাগ থানার ডিউটিরত অফিসার এসআই ইখলাস মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক আলামতের ভিত্তিতে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে একই বিভাগের ৪৪তম আবর্তনের আরেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ কাজল মিয়া জানান, সাবিত কয়েকদিন ধরেই মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কিছু অস্বাভাবিক পোস্টও দিয়েছিলেন। গতকাল রাত আনুমানিক ৩টার দিকে জানা যায়, তিনি নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেছেন।

একই দিন (শুক্রবার) শিক্ষকের রোষানলে পড়ে এক বিষয়ে পাঁচ বার ফেল করে অভিমানে ১০৯ টি ঘুমের ঔষধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন কুমিল্লার বেসরকারি সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিন।

অর্পিতা নওশিন

নাম প্রকাশ করলে শিক্ষকের রোষানলে পড়ার আশঙ্কা থাকায় উহ্য রাখার অনুরোধ জানিয়ে অর্পিতা নওশিনের বন্ধুরা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছেন, প্রথম বর্ষেই কলেজের এনাটমি বিভাগের প্রধান ডা. মনিরা জহিরের রোষানলে পড়েন নওশিন। প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় সকল বিষয়ে উত্তীর্ণ হলেও এনাটমিতে অকৃতকার্য হতে হয় তাকে। গত তিন বছরে নওশিন আরও চারবার এনাটমির পরীক্ষা দিয়েছেন, কিন্তু প্রতিবারই পরীক্ষায় ফেল হয়েছেন। তার এই অসফলতার সুনির্দিষ্ট কারণ কেউ জানে না। তবে বন্ধুরা বলছেন, প্রথম বর্ষে থাকা অবস্থায় মনিরা শারমিন প্রকাশ্যেই নওশিনকে ফেল করার হুমকি দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ নাফিজ শুক্রবার সকাল ১০টায় গৌরনদীর নিজ বাড়িতে মারা যান। গত ১৬ মার্চ অসুস্থতার কারণে তাকে ঢাকা নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিছুটা সুস্থ বোধ করায় চিকিৎসকের পরামর্শে গত ১ এপ্রিল পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

ববি শিক্ষার্থী নাফিজ, ঢাবি শিক্ষার্থী সীমান্ত ও জাবি শিক্ষার্থী সাবিত (ডান থেকে)

শুক্রবার রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের (এসএইচএসএমসি) পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া সাবরী মাহি (২৩) মারা যান ডায়রিয়াজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে। সহপাঠীরা জানিয়েছেন, মাহি এসএইচএসএমসির ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ছিলেন শান্ত স্বভাবের, ভদ্র এবং ভালো মনের একজন মানুষ।

এই পাঁচ শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষিরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী মাহির বন্ধু শ্রেয়া বসু ফেসবুকে শোক প্রকাশ করে লেখেন, ‘মুগদা মেডিকেল কলেজে ভর্তির পর আমার প্রথম বন্ধু ছিল মাহি। মেয়েটা ছিল ভীষণ শান্ত, ভদ্র আর অসাধারণ ভালো একজন মানুষ। আমাদের রোল কাছাকাছি ছিল, তাই প্রায় সবসময়ই আমরা একসাথেই থাকতাম। কিছুদিন পর মাইগ্রেশনে মাহি সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে চলে যায়। সেদিন ওকে জড়িয়ে ধরে আমি অনেক কেঁদেছিলাম… কারণ জানতাম, আর প্রতিদিন দেখা হবে না, একসাথে ঘোরা হবে না। তারপর থেকে আমাদের কথা হতো মেসেজে… কিন্তু দূরত্ব কখনো আমাদের বন্ধুত্বকে কমাতে পারেনি।’